নির্বাচন বিতর্ক, লন্ডন বৈঠক ও রাজনৈতিক দূরত্ব নিয়ে কড়া সমালোচনা; গণতন্ত্রে বিভাজনের দায়ও তুললেন বিএনপি মহাসচিব।

নির্বাচন বিতর্ক, লন্ডন বৈঠক ও রাজনৈতিক দূরত্ব নিয়ে কড়া সমালোচনা; গণতন্ত্রে বিভাজনের দায়ও তুললেন বিএনপি মহাসচিব।

টুইট ডেস্ক: জাতীয় সংসদে তীব্র রাজনৈতিক ভাষ্য তুলে ধরে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, তাদের দল আগের অবস্থানেই রয়েছে, বরং জামায়াতে ইসলামী হঠাৎ করেই নিজেদের অবস্থান বদলে ফেলেছে।

বৃহস্পতিবার রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাবের আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ মন্তব্য করেন।

ফখরুল বলেন, “আমাদের চেহারা বদলায়নি,এটা স্পষ্ট। কিন্তু তারা হঠাৎ করেই বদলে গেছে। মনে হয়েছে, ক্ষমতায় যাওয়ার ইঙ্গিত পেয়েই তারা অবস্থান পরিবর্তন করেছে।”

তার দাবি, এই পরিবর্তিত অবস্থান এবং সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে সহায়তা না করে বরং বিভাজন বাড়িয়েছে।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে তিনি নির্বাচন ইস্যুতেও সরব হন। নির্বাচনকে ‘ইঞ্জিনিয়ারিং’ বলে অস্বীকার করার প্রবণতা নিয়ে সমালোচনা করে বলেন, জনগণ এমন বক্তব্য গ্রহণ করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না।

তার মতে, নির্বাচন নিয়ে এই বিতর্কই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে দূরত্ব তৈরির অন্যতম কারণ।

বিএনপি মহাসচিব জুলাইয়ের ছাত্র-জনতার আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, এই ইতিহাস দেশের মানুষের হৃদয়ে ধারণ করা রয়েছে।

এ নিয়ে কোনো ধরনের কটাক্ষ বা বিদ্রূপ সাধারণ মানুষের অনুভূতিতে আঘাত করে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

লন্ডনে অনুষ্ঠিত বৈঠক প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ওই বৈঠক নিয়ে ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তোলা “অত্যন্ত দুঃখজনক”।

ফখরুলের ভাষায়, “লন্ডনের সেই বৈঠকেই নির্বাচনের সময়সূচি নির্ধারণ হয়েছিল এবং দ্রুত নির্বাচনের বিষয়ে সম্মতি এসেছিল। এ বাস্তবতা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।”

সংসদে সংস্কার ইস্যুতেও নিজের অবস্থান তুলে ধরে তিনি বলেন, বিএনপিকে ‘সংস্কারবিরোধী’ হিসেবে চিহ্নিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা সঠিক নয়। বরং তার দাবি, সংস্কারের সূচনাকারী হিসেবেই বিএনপি নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করেছে।

রাজনৈতিক অঙ্গনে চলমান টানাপোড়েনের মধ্যে ফখরুলের এই বক্তব্য নতুন করে বিতর্ক উসকে দিয়েছে।

বিশেষ করে নির্বাচন, জোট রাজনীতি এবং ভবিষ্যৎ ক্ষমতার সমীকরণ নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনার নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।