কঠিন সময়ের সতর্কবার্তা

দুই বছর চ্যালেঞ্জিং, অজনপ্রিয় সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত অর্থমন্ত্রীর।

টুইট প্রতিবেদক: জাতীয় সংসদে অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে সামনে কঠিন সময়ের সতর্কবার্তা দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

তিনি বলেছেন, আগামী দুই বছর দেশের জন্য অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং হতে যাচ্ছে এবং এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারকে এমন কিছু সিদ্ধান্ত নিতে হবে, যা সাধারণ মানুষের কাছে জনপ্রিয় নাও হতে পারে।

বৃহস্পতিবার সংসদে রাষ্ট্রপতির ধন্যবাদ প্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে অর্থমন্ত্রী এ কথা বলেন।

তিনি স্পষ্ট করে জানান, দেশের অর্থনীতি বর্তমানে নিম্নস্তরের ভারসাম্যে আটকে পড়েছে, যেখান থেকে উত্তরণ সহজ নয়। তবে সমন্বিত উদ্যোগ নিলে সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব বলেও আশাবাদ ব্যক্ত করেন তিনি।

অর্থমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য রাজনৈতিক বিভাজন ভুলে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।

এ ক্ষেত্রে বিরোধী দলের সহযোগিতাও জরুরি। দেশের বৃহত্তর স্বার্থে ঐক্যবদ্ধ পদক্ষেপ ছাড়া বর্তমান সংকট মোকাবিলা করা কঠিন হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।

বর্তমান অর্থনৈতিক সূচক তুলে ধরে তিনি জানান, খেলাপি ঋণের হার ৩০ শতাংশের বেশি হয়ে গেছে, যা অর্থনীতির গতি প্রায় স্থবির করে দেওয়ার মতো পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে। তুলনামূলকভাবে ২০০৫ সালে এই হার ছিল প্রায় ১৩ শতাংশ। এর ফলে আর্থিক সক্ষমতা ধীরে ধীরে কমে আসছে বলে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তিনি।

ঋণ পুনঃতফসিলীকরণ প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী বলেন, এটি কোনো নতুন বিষয় নয়; বরং বৈশ্বিক ব্যাংকিং ব্যবস্থার একটি স্বীকৃত প্রক্রিয়া।

বিশেষ পরিস্থিতিতে,যেমন মহামারি বা রাজনৈতিক অস্থিরতায়,ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হলে এই সুবিধা দেওয়া হয়ে থাকে। তবে তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন রাজনৈতিক কারণে অনেক ব্যবসায়ী তাদের প্রাপ্য

ব্যাংকিং সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, নানা বাধা ও চাপের কারণে অনেক উদ্যোক্তা ব্যবসা চালিয়ে যেতে পারেননি, এমনকি কেউ কেউ কারাবন্দী থাকায় ঋণ পরিশোধ করাও সম্ভব হয়নি। এসব বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি মূল্যায়ন করা প্রয়োজন।

অর্থমন্ত্রী আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, নেতৃত্বের সঠিক দিকনির্দেশনা ও সম্মিলিত প্রচেষ্টার মাধ্যমে সংকট কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।

তবে এর জন্য কঠিন সিদ্ধান্ত গ্রহণের বিকল্প নেই বলেও তিনি স্পষ্ট করেন।