বদরগঞ্জে জন্মসনদ কেলেঙ্কারি

ভারতীয় নাগরিকদের বাংলাদেশি পরিচয় দেওয়ার অভিযোগে সাবেক মেয়র বিতর্কে, দুদকের তদন্তে ধীরগতি নিয়ে ক্ষোভ
টুইট প্রতিবেদক: রংপুরের বদরগঞ্জ পৌরসভায় জন্মসনদ জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। সাবেক মেয়র উত্তম কুমার সাহার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, তিনি দায়িত্বে থাকাকালে ভারতীয় দুই সহোদরকে অবৈধভাবে বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে জন্মসনদ প্রদান করেছেন। একই সঙ্গে তাদের মায়ের নামে মৃত্যুসনদ ইস্যুর ঘটনাও প্রশ্নের মুখে পড়েছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, পশ্চিমবঙ্গের উত্তর ২৪ পরগনার বাসিন্দা মনোজ কুমার সাহা ও রাজীব কুমার সাহাকে বদরগঞ্জ পৌরসভার বাসিন্দা দেখিয়ে ২০১৯ সালে জন্মসনদ দেওয়া হয়।
অথচ তারা ভারতীয় পাসপোর্টধারী এবং সেখানেই বসবাস করছেন। এ সংক্রান্ত প্রমাণ ও তথ্য দুর্নীতি দমন কমিশনে জমা দেওয়া হলেও দীর্ঘদিনেও দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি।
একই ঘটনায় তাদের মা আরতী রাণী সাহার মৃত্যুসনদ নিয়েও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, তিনি কলকাতায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেলেও একই তারিখে বদরগঞ্জ পৌরসভা থেকে মৃত্যুসনদ ইস্যু করা হয়। পুরো বিষয়টি পরিকল্পিত জালিয়াতি এবং সম্পত্তি দখলের উদ্দেশ্যে করা হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এ ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দা প্রদীপ কুমার সাহা একাধিকবার দুদকের রংপুর কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দিলেও তা আমলে নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন। তার দাবি, প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা চলছে এবং তদন্ত প্রক্রিয়াও প্রভাবিত হতে পারে।
স্থানীয় সূত্র বলছে, সংশ্লিষ্ট পরিবারের বদরগঞ্জ শহরে বিপুল পরিমাণ সম্পত্তি রয়েছে, যার মূল্য শতকোটি টাকার বেশি হতে পারে।
এসব সম্পদের মালিকানা নিশ্চিত করতেই ভুয়া সনদ সংগ্রহ করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক মেয়র উত্তম কুমার সাহা বলেন, সংশ্লিষ্টরা ভারতীয় নাগরিক নন। ইউনিয়ন পরিষদ আমলে ১৯৯৫ সালে তাদের জন্মসনদ দেওয়া হয়েছিল, পরবর্তীতে সেই নথির ভিত্তিতেই পৌরসভা থেকে সনদ প্রদান করা হয়। তবে ওই সময়ের কোনো প্রামাণ্য নথি এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
দুদকের রংপুর কার্যালয়ের উপপরিচালক জানিয়েছেন, বিষয়টি অনুসন্ধানে রয়েছে এবং তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে দীর্ঘসূত্রতায় হতাশ স্থানীয়রা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদঘাটন এবং দায়ীদের শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অভিযোগ প্রমাণিত হলে এটি কেবল স্থানীয় প্রশাসনের অনিয়ম নয়; বরং জাতীয় নিরাপত্তা ও নাগরিক নিবন্ধন ব্যবস্থার জন্যও বড় ধরনের হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।






