রাজশাহীতে কলেজে হাতাহাতির ঘটনায় নারী প্রদর্শক সাময়িক বরখাস্ত

দুর্গাপুরের দাওকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজে সংঘর্ষের পর মাউশির সিদ্ধান্ত; অধ্যক্ষ ও প্রদর্শকের বিরুদ্ধে মানববন্ধন, পাল্টা নিরাপত্তাহীনতার অভিযোগ।

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর দুর্গাপুরের দাওকান্দি সরকারি ডিগ্রি কলেজে বিএনপি নেতার সঙ্গে হাতাহাতির ঘটনায় আলোচিত প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত এ সিদ্ধান্ত বহাল থাকবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

রোববার দুপুরে কলেজে শিক্ষক-কর্মচারীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে রাজশাহী অঞ্চলের মাউশি পরিচালক অধ্যাপক মোহা. আছাদুজ্জমান বরখাস্তের তথ্য নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্তের স্বার্থেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে এবং সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে লিখিত ব্যাখ্যা চাওয়া হয়েছে।

ঘটনাকে ঘিরে একইদিন কলেজ প্রাঙ্গণে অধ্যক্ষ ড. আব্দুর রাজ্জাক ও প্রদর্শক আলেয়া খাতুনের বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেন শিক্ষক-কর্মচারীদের একাংশ। তাদের অভিযোগ, কলেজ পরিচালনায় অনিয়ম, অপশাসন ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রভাব বিস্তারের কারণে দীর্ঘদিন ধরে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে।

মানববন্ধনে বক্তারা দাবি করেন, গত ২৩ এপ্রিল তাফসিরুল কমিটির সদস্যদের সঙ্গে মাঠ ব্যবহার ও আর্থিক সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা চলাকালে ভুল বোঝাবুঝি থেকে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়। তাদের ভাষ্য, ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে উসকে দেওয়া হয়েছে।

সমাজবিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক রেজাউল করিম অভিযোগ করেন, ঘটনাটির পেছনে ব্যক্তিগত আচরণ ও প্রশাসনিক দুর্বলতা দায়ী। অন্যদিকে দর্শন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক এনামুল হক অধ্যক্ষ ও প্রদর্শকের পদত্যাগ দাবি করেন।

তবে এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে প্রদর্শক আলেয়া খাতুন হীরা দাবি করেছেন, তিনি বরং নির্যাতনের শিকার। তার অভিযোগ, কলেজের জমিজমা, আর্থিক অনিয়ম ও চাঁদাবাজি ঘিরে একটি পক্ষ পরিকল্পিতভাবে তাকে টার্গেট করেছে।

তিনি বলেন, ঘটনার পর থেকে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। তার ভাষ্য, তাকে বহিষ্কার করা হলেও প্রকৃত ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত জরুরি।

এদিকে ঘটনার পর রোববারও কলেজে যাননি অধ্যক্ষ ড. আব্দুর রাজ্জাক। অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে তিনি এক জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে সাময়িক দায়িত্ব পালনের কথা জানিয়েছেন বলে কলেজ সূত্রে জানা গেছে।

ঘটনার জেরে কলেজজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করলেও এখন পর্যন্ত থানায় কোনো মামলা হয়নি। তবে শিক্ষা প্রশাসন বলছে, তদন্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক প্রভাব, প্রশাসনিক দ্বন্দ্ব ও অভ্যন্তরীণ বিরোধ নতুন করে সামনে এনে দিয়েছে এ ঘটনা। তদন্তে প্রকৃত চিত্র উঠে আসার দিকেই এখন নজর সবার।