আলীকদমে হামের থাবা: ৩ শিশুর মৃত্যু, ৩৬ পাড়ায় সংক্রমণ

কুরুকপাতায় চালু অস্থায়ী ক্লিনিক, দুর্গমতায় চিকিৎসাবঞ্চিত শতাধিক শিশু।

নিজস্ব প্রতিবেদক, বান্দরবান: বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম কুরুকপাতা ইউনিয়নে হামের প্রাদুর্ভাব মারাত্মক আকার ধারণ করেছে। ইতোমধ্যে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়েছে ৩৬টি পাড়ায়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় জরুরি ভিত্তিতে অস্থায়ী ক্লিনিক চালু করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

শনিবার সকালে কুরুকপাতা বাজারসংলগ্ন মৈত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এই অস্থায়ী ক্লিনিক চালু করা হয়। সরেজমিন পরিদর্শন শেষে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম বিভাগীয় পরিচালক ডা. শেখ ফজলে রাব্বি এ উদ্যোগ গ্রহণের নির্দেশ দেন।

তিনি জানান, দেশে হাম ও রুবেলার সংক্রমণ বাড়ছে, কুরুকপাতায়ও পরিস্থিতি উদ্বেগজনক। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত টিকাদান ও চিকিৎসা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

সংক্রমণের বিস্তার ও চিকিৎসা পরিস্থিতি

উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৭ জন, লামায় ৩ জন এবং কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ১ জনসহ মোট ৩১ জন হাম উপসর্গ নিয়ে ভর্তি রয়েছেন।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. হানিফ জানান, অস্থায়ী ক্লিনিকে অক্সিজেন সিলিন্ডারসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সরঞ্জাম রাখা হয়েছে। সেখানে দুজন চিকিৎসক, দুজন নার্স এবং স্বাস্থ্যকর্মীরা সার্বক্ষণিক সেবা দিচ্ছেন।

দুর্গমতায় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত শিশু

স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মতে, প্রকৃত আক্রান্তের সংখ্যা আরও বেশি হতে পারে। আলীকদম সদর থেকে কুরুকপাতার অনেক পাড়া ৩০-৩৫ কিলোমিটার দূরে, যার বড় অংশই দুর্গম পাহাড়ি পথ। অনেক জায়গায় ১২-১৫ কিলোমিটার পথ হেঁটে যেতে হয়।

কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ক্রাতপুং ম্রো বলেন, অর্থনৈতিক সংকট ও যোগাযোগ সমস্যার কারণে বহু শিশু চিকিৎসার বাইরে রয়ে গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বিভিন্ন পাড়ায় প্রায় প্রতিটি পরিবারেই জ্বর ও ফুসকুড়িতে আক্রান্ত শিশু রয়েছে। অনেকেই অর্থের অভাবে হাসপাতালে নিতে পারছেন না।

দ্রুত পদক্ষেপের তাগিদ

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম অত্যন্ত সংক্রামক হলেও এটি প্রতিরোধযোগ্য। দ্রুত গণটিকাদান, আক্রান্ত শনাক্তকরণ, পুষ্টি নিশ্চিতকরণ এবং সচেতনতা বাড়ানো না গেলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে।

এ অবস্থায় ৩৬টি দুর্গম পাড়ায় সংক্রমণ ঠেকাতে মোবাইল চিকিৎসা দল গঠন, বিনামূল্যে পরিবহন সুবিধা এবং নিয়মিত তদারকির ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে, দ্রুত সমন্বিত পদক্ষেপ না নিলে আলীকদমের এই প্রাদুর্ভাব বড় ধরনের জনস্বাস্থ্য সংকটে রূপ নিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।