শিক্ষিকাকে লাঞ্ছনা, বহিষ্কৃত সেই বিএনপি নেতা

দুর্গাপুরের ঘটনায় দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে সাংগঠনিক ব্যবস্থা, নিন্দার ঝড়

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহীর দুর্গাপুরে সরকারি কলেজে ঢুকে ভাঙচুর এবং এক শিক্ষিকাকে স্যান্ডেল দিয়ে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত স্থানীয় বিএনপি নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর শিক্ষা অঙ্গন ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে।

শুক্রবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দলীয় নীতি, আদর্শ ও শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে দুর্গাপুর উপজেলার জয়নগর ইউনিয়ন বিএনপির সহ-সভাপতি আকবর আলীকে প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের দলীয় পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কোনো ব্যক্তি বা নেতার ব্যক্তিগত কর্মকাণ্ডের দায় দল নেবে না। শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সহিংস আচরণের অভিযোগে দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা দলীয় অবস্থানও স্পষ্ট করেছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দাওকান্দি সরকারি কলেজে প্রবেশ করে ভাঙচুর ও শিক্ষিকা হীরা খাতুনকে লাঞ্ছনার অভিযোগ ওঠে আকবর আলী ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে। ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোড়ন তোলে এবং সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নিন্দার ঝড় ওঠে।

অভিযোগের বিষয়ে আকবর আলী দাবি করেছেন, ঘটনাটি ভুল বোঝাবুঝি ও কথা কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষে রূপ নেয়। তার ভাষ্য, স্থানীয় কয়েকজন প্রবীণ ব্যক্তি দাওয়াতপত্র নিয়ে কলেজে গেলে শিক্ষিকার সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হয়, সেখান থেকেই পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

তবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ঢুকে শিক্ষকের ওপর হামলার ঘটনায় স্থানীয় নাগরিক সমাজ ও শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন—কীভাবে এমন ঘটনা ঘটল এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোথায় ঘাটতি ছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, রাজনৈতিক পরিচয়ে প্রভাব খাটিয়ে সহিংস আচরণের অভিযোগে তাৎক্ষণিক বহিষ্কার বিএনপির জন্য বার্তাবাহী সিদ্ধান্ত। এতে একদিকে দল শৃঙ্খলার প্রশ্নে কঠোর অবস্থান দেখাল, অন্যদিকে ঘটনাটির বিচার ও জবাবদিহির দাবি আরও জোরালো হলো।

ঘটনায় প্রশাসনিক ও আইনি পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা চলছে। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, শিক্ষকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শুধু দলীয় ব্যবস্থা নয়, আইনের যথাযথ প্রয়োগও জরুরি।