রাজপথে মোকাবিলার হুঁশিয়ারি বিএনপির

জুলাই সনদ ঘিরে মতভেদ, সংঘাত এড়াতে সংসদীয় সমাধানের আহ্বান
টুইট ডেস্ক: জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে রাজনৈতিক মতভেদ রাজপথ পর্যন্ত গড়ানোর প্রেক্ষাপটে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে তা রাজপথেই মোকাবিলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে বিএনপি। দলটির নেতারা বলছেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করে কেউ বিশৃঙ্খলা তৈরির চেষ্টা করলে জনগণের স্বার্থে তারা নীরব থাকবে না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্যক্রম শুরুর পর থেকেই জুলাই জাতীয় সনদ নিয়ে আলোচনা রাজনৈতিক অঙ্গনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। এ সনদ বাস্তবায়নে সংস্কার পরিষদের পরিবর্তে ‘বিশেষ কমিটি’ গঠনের প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। তবে এ প্রস্তাবে বিরোধী জোটের আপত্তি থেকে নতুন রাজনৈতিক টানাপড়েন তৈরি হয়েছে।
বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব আব্দুস সালাম আজাদ বলেছেন, আওয়ামী শাসনামলের দমন-পীড়ন মোকাবিলা করে টিকে থাকা বিএনপি এখন রাষ্ট্র মেরামত ও সাংগঠনিক পুনর্গঠনে মনোযোগী। কিন্তু এই প্রক্রিয়ায় কেউ উদ্দেশ্যমূলকভাবে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করলে তা প্রতিহত করা হবে। তার ভাষায়, জনগণের গণতান্ত্রিক প্রত্যাশা নস্যাৎ করতে চাইলে বিএনপি রাজপথে অবস্থান নিতে পিছপা হবে না।
দলটির নীতিনির্ধারকদের বক্তব্যে স্পষ্ট, বর্তমান পর্যায়ে সংঘাত নয়, রাজনৈতিক সমঝোতাকেই গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক শাহীন শওকত বলেছেন, সংসদীয় রাজনীতির মতভেদ সংসদের ভেতরেই নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। রাজপথে উত্তেজনা তৈরি করে সংকট বাড়ানোর কোনো যুক্তি নেই।
একই অবস্থান ব্যক্ত করেছেন ভাইস চেয়ারম্যান অ্যাডভোকেট জয়নাল আবেদীন। তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়নে সাংবিধানিক ও আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া বিকল্প নেই। রাজনৈতিক প্রশ্নকে সংঘাতে রূপ না দিয়ে সংসদীয় বিতর্কের মাধ্যমে সমাধানই হতে পারে টেকসই পথ।
নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে বর্তমানে আগের মতো আন্দোলনকেন্দ্রিক তৎপরতার বদলে সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড বেশি দৃশ্যমান। দলীয় সূত্র বলছে, সরকারের সঙ্গে সংস্কার প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা এবং দলীয় ভিত শক্তিশালী করাই এখন বিএনপির দ্বিমুখী কৌশল।
বিশ্লেষকদের মতে, বিরোধীদের আন্দোলন ও বিএনপির পাল্টা কঠোর অবস্থানের ইঙ্গিত রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন সমীকরণের জন্ম দিতে পারে। তবে সংসদকে পাশ কাটিয়ে রাজপথে সংঘাতের রাজনীতি ফিরে এলে তা সামগ্রিক রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
বিএনপি নেতারা বলছেন, আন্দোলনের নামে জনদুর্ভোগ বা জানমালের ক্ষতি মেনে নেওয়া হবে না। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখে দলটি প্রয়োজনীয় রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেবে। ফলে জুলাই সনদ ঘিরে মতপার্থক্য এখন কেবল সংসদীয় বিতর্কেই সীমাবদ্ধ থাকবে, নাকি রাজপথে নতুন উত্তাপ তৈরি করবে—সেদিকেই নজর রাজনৈতিক মহলের।






