পুলিশের ছদ্মবেশে ডাকাতি, আতঙ্কে চকরিয়া

এক রাতেই তিন বাড়িতে হানা, অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে লুট লাখো টাকার সম্পদ।
টুইট প্রতিবেদক: কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায় পুলিশের পোশাক পরে সংঘবদ্ধ ডাকাত দলের দুঃসাহসিক তৎপরতায় জনমনে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
একই রাতে তিনটি বাড়িতে ধারাবাহিক ডাকাতির ঘটনায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে স্থানীয়দের মধ্যে।
মঙ্গলবার গভীর রাতে উপজেলার বরইতলী ইউনিয়নের চৌকিদারকাটা ও সিকদারপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগীদের বর্ণনা অনুযায়ী, রাত সোয়া ৩টা থেকে পৌনে ৪টার মধ্যে পুলিশের পোশাক পরিহিত সশস্ত্র একটি দল পৃথক তিনটি বাড়িতে হানা দেয়।
নিজেদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য পরিচয় দিয়ে তারা প্রথমে দরজা খুলতে বাধ্য করে, এরপর অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে শুরু করে লুটপাট।
সিকদারপাড়ার বাসিন্দা জাহানারা বেগম জানান, ডাকাতরা ইয়াবা উদ্ধারের কথা বলে তার ঘরে প্রবেশ করে। পরে আলমারির চাবি নিয়ে নগদ প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা এবং আনুমানিক ৫ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার লুট করে।
একপর্যায়ে তাকে জিম্মি করে পাশের আরেকটি বাড়িতে নিয়ে গিয়ে একই কৌশলে সেখান থেকেও নগদ অর্থ হাতিয়ে নেয়।
এর আগে একই রাতে চৌকিদারকাটা এলাকায় মোহাম্মদ নুরুল আবছারের বাড়িতেও একই কায়দায় ডাকাতি সংঘটিত হয়। সেখান থেকে নগদ টাকা, মোবাইল ফোনসহ বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
ঘটনার ধরন ও কৌশল বিশ্লেষণ করে স্থানীয়রা বলছেন, এটি একটি সুপরিকল্পিত ও সংঘবদ্ধ চক্রের কাজ। পুলিশের পোশাক ব্যবহার করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা এবং ‘মাদকবিরোধী অভিযান’-এর ছুতোয় ঘরে প্রবেশের কৌশল,এসব বিষয় নতুন ধরনের অপরাধ প্রবণতার ইঙ্গিত দিচ্ছে।
এদিকে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মনির হোসেন জানিয়েছেন, এ বিষয়ে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পাওয়া যায়নি।
তবে অভিযোগ পেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয়দের দাবি, এমন ঘটনার দ্রুত তদন্ত ও দোষীদের গ্রেপ্তার না হলে এলাকায় আইনশৃঙ্খলার প্রতি মানুষের আস্থা আরও কমে যেতে পারে।
পাশাপাশি পুলিশের পোশাক ব্যবহারের মতো সংবেদনশীল বিষয় কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের আহ্বানও জানিয়েছেন তারা।






