রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি দিল জামাতের আমীর

দুই মাসে সংকট ঘনীভূত, সংসদ ব্যর্থ হলে আন্দোলনের পথে জনগণ
টুইট ডেস্ক: জামায়াতে ইসলামের নায়েবে আমির ও রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, সরকারের কর্মকাণ্ডের কারণে আগামী দুই মাসের মধ্যেই জনগণ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, সংসদে সমাধানযোগ্য বিষয়গুলো ইচ্ছাকৃতভাবে রাস্তায় ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যা রাজনৈতিক অস্থিরতাকে আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে।
মঙ্গলবার ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচনে আইনজীবী ঐক্য পরিষদের সবুজ প্যানেলের পরিচিতি সভায় তিনি এসব কথা বলেন। আজহার দাবি করেন, নির্বাচনে
কারচুপির মাধ্যমে সরকার ক্ষমতায় এসেছে,এটি সরকার ও জনগণ উভয়েই জানে। তিনি গণভোটের রায়কে অবজ্ঞা না করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “সংসদের ভেতরে লড়াই চলবে, তবে প্রয়োজনে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে রাজপথেও আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।”
অনুষ্ঠানে পটুয়াখালী-২ আসনের সংসদ সদস্য শফিকুল ইসলাম মাসুদ বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে জনগণের প্রতিনিধিত্ব নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তার ভাষায়, একদিকে শহীদের পরিবারের প্রতিনিধিত্ব সংসদে আনা হচ্ছে, অন্যদিকে বিতর্কিত ব্যক্তিদেরও জায়গা দেওয়া হচ্ছে, যা রাজনৈতিক দ্বৈততার ইঙ্গিত বহন করে।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, জনগণের বিপুল সমর্থন থাকা সত্ত্বেও সেটিকে উপেক্ষা করে সরকার ভিন্ন পথে এগোচ্ছে। এর মাধ্যমে জনগণের আস্থা অর্জনে সরকারের ব্যর্থতা স্পষ্ট হয়ে উঠছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক প্রধান কৌঁসুলি তাজুল ইসলাম বলেন, সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর দেশের বিচারব্যবস্থা নিয়ে নতুন প্রত্যাশা তৈরি হলেও বাস্তবে তা পূরণ হয়নি।
তিনি একটি স্বাধীন বিচারব্যবস্থার ওপর জোর দিয়ে বলেন, বিচারকদের নির্বাহী বিভাগের প্রভাবমুক্ত থাকতে হবে।
সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শিশির মনির বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন হওয়ার অভিযোগ তুলে বলেন, বিচার বিভাগীয় সচিবালয় বাতিলের সিদ্ধান্ত ন্যায়বিচারের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে একাধিক আবেদন করা হয়েছে এবং স্থিতাবস্থা চাওয়া হয়েছে।
জাতীয় নাগরিক পার্টির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেন, জনগণ এখন ভোটাধিকার ও সুশাসন ফিরে পেতে চায়। তিনি উপনির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে বলেন, ভোটকেন্দ্র ত্যাগ না করে প্রতিরোধ গড়ে তোলাই হবে কার্যকর কৌশল।
ল’ইয়ার্স কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান আকন্দ বলেন, ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন ঘিরে অগণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অভিযোগ রয়েছে। তিনি বলেন, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আইনজীবীরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন।
উল্লেখ্য, ঢাকা আইনজীবী সমিতির নির্বাচন আগামী ২৯ ও ৩০ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে। এতে বিএনপি ও সমমনা দলগুলোর নীল প্যানেল এবং জামায়াত-এনসিপি সমর্থিত সবুজ প্যানেল প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। নির্বাচনকে ঘিরে ইতোমধ্যে রাজনৈতিক উত্তাপ বাড়তে শুরু করেছে, যা বৃহত্তর রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।






