ঢাক ঢোলে বৈশাখ, চলবে উৎসবের রঙ ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত

শিল্পকলা একাডেমিতে লোকজ ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সম্প্রীতির বহুমাত্রিক আয়োজন।

টুইট প্রতিবেদক: রাজধানীতে নববর্ষ উদযাপন ঘিরে শুরু হয়েছে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক উৎসব, যা চলবে আগামী ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত।

বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে পাঁচ দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানমালায় উঠে এসেছে গ্রামীণ ঐতিহ্য, লোকসংস্কৃতি ও আধুনিক সঙ্গীতের সম্মিলিত রূপ।

পহেলা বৈশাখের দিন বিকেলে একাডেমি প্রাঙ্গণে বর্ণিল শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে উৎসবের সূচনা হয়।

শোভাযাত্রাটি প্রশিক্ষণ ভবন থেকে শুরু হয়ে একাডেমি ঘুরে জাতীয় নাট্যশালার সামনে এসে শেষ হয়।

এতে অংশ নেন সরকারের উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিসহ সংস্কৃতি অঙ্গনের বিশিষ্টজনরা।

সন্ধ্যায় জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে শতকণ্ঠে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মাধ্যমে শুরু হয় মূল আয়োজন।

এরপর বৈশাখ আবাহনের গান, সংক্ষিপ্ত আলোচনা এবং ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় মুখর হয়ে ওঠে পুরো প্রাঙ্গণ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে তথ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, পহেলা বৈশাখ শুধুই উৎসব নয়, এটি সাম্যের ও সম্প্রীতির প্রতীক।

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকল মানুষের অংশগ্রহণই এই উৎসবের মূল শক্তি। তিনি জানান, এবারের বৈশাখ কৃষকদের প্রতি উৎসর্গ করা হয়েছে, যা দেশের কৃষিনির্ভর অর্থনীতির গুরুত্বকেই তুলে ধরে।

আয়োজকদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এবারের অনুষ্ঠানে লোকজ সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।

কবিগান, গম্ভীরা, বাউল, গাজীর গানসহ বিভিন্ন ধারার পরিবেশনার পাশাপাশি ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর নৃত্য ও সঙ্গীত দর্শকদের আকর্ষণ করছে।

পাশাপাশি জনপ্রিয় তারকা শিল্পীদের অংশগ্রহণে ব্যান্ড সঙ্গীতও যুক্ত করেছে আধুনিকতার ছোঁয়া।

তৃতীয় দিনের আয়োজনে থাকছে বিশেষ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও অ্যাক্রোব্যাটিক প্রদর্শনী।

এছাড়া ১৩ থেকে ১৭ এপ্রিল পর্যন্ত চলমান বৈশাখী মেলায় দর্শনার্থীরা উপভোগ করতে পারবেন গ্রামীণ ঐতিহ্যবাহী পণ্য, হস্তশিল্প ও লোকজ খাবারের সমাহার।

সব মিলিয়ে, রাজধানীর এই আয়োজন কেবল উৎসবের আনন্দই নয়,বরং একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ ও সাংস্কৃতিক ঐক্যের প্রতীক হিসেবেই নতুন করে সামনে এসেছে।