হরমুজে আটকে জাহাজ: দ্রুত চলাচলের আশ্বাস

ঢাকা ইরানি রাষ্ট্রদূতের বার্তা নিরাপদ যাত্রায় সহযোগিতা দেবে তেহরান।

টুইট প্রতিবেদক ঢাকায় নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত জলিল রহিমি জাহানাবাদী আশ্বাস দিয়েছেন, যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে হরমুজ প্রণালি এলাকায় আটকে পড়া বাংলাদেশি জাহাজগুলো খুব শিগগিরই নিরাপদে প্রণালি অতিক্রম করতে পারবে।

তিনি বলেন, চলমান উত্তেজনার মধ্যেও জাহাজগুলোর নির্বিঘ্ন যাত্রা নিশ্চিত করতে ইরান প্রয়োজনীয় সহযোগিতা দেবে।

রোববার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ঐতিহাসিক বটতলায় আয়োজিত এক শোক সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত এ তথ্য জানান।

‘ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের শহীদ শিক্ষার্থীদের স্মরণ’ শীর্ষক এই কর্মসূচিতে তিনি বলেন, যুদ্ধাবস্থার কারণে প্রণালিতে বহু দেশের জাহাজ অপেক্ষমাণ রয়েছে, যার মধ্যে বাংলাদেশের জাহাজও রয়েছে।

রাষ্ট্রদূত জানান, বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত জাহাজ ছাড়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।

“ইনশাআল্লাহ, খুব অল্প সময়ের মধ্যেই এসব জাহাজ প্রণালি পাড়ি দিতে সক্ষম হবে,” বলেন তিনি।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ ও ইরানের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ ও বন্ধুত্বপূর্ণ।

“বাংলাদেশ আমাদের কাছে ভাইয়ের দেশের মতো” এমন মন্তব্য করে তিনি দুই দেশের পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদারের আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র–ইরান উত্তেজনা এবং সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি প্রসঙ্গে রাষ্ট্রদূত বলেন, সম্মানজনক শর্তে আলোচনা হলে ইরান তাতে অংশ নিতে প্রস্তুত।

তবে শর্ত লঙ্ঘিত হলে পাল্টা জবাব দেওয়ার কথাও স্পষ্টভাবে তুলে ধরেন তিনি।

তিনি পাকিস্তানের মধ্যস্থতার উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে ওমানসহ সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ভূমিকাও প্রশংসা করেন।

তবে অতীত অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আলোচনার ফলাফল নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

সমাবেশে রাষ্ট্রদূত মার্কিন-ইসরাইলি হামলাকে ‘গণহত্যা’ আখ্যা দিয়ে অভিযোগ করেন, এসব হামলায় হাসপাতাল, স্কুল ও বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো বেসামরিক স্থাপনাও লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।

তিনি দাবি করেন, ইরান যুদ্ধ চায় না, বরং শান্তিপূর্ণ সমাধানই তাদের লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় বিপ্লবী পরিষদের আহ্বায়ক খোমেনী ইহসানসহ বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা।

কর্মসূচির অংশ হিসেবে নিহত ইরানি শিশুদের স্মরণে প্রতীকী কফিন, রক্তাক্ত স্কুলব্যাগ ও ছবি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।