গ্যালারিতে বিদ্বেষ, ইয়ামালের কড়া বার্তা

মুসলিমবিদ্বেষী স্লোগানে ক্ষোভ; ফুটবলে বর্ণবাদ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানের দাবি।

টুইট ডেস্ক: স্পেন মিশর প্রীতি ম্যাচ ঘিরে গ্যালারিতে ওঠা মুসলিমবিদ্বেষী স্লোগানকে কেন্দ্র করে তীব্র প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্পেনের তরুণ ফুটবলার লামিনে ইয়ামাল।

ধর্মকে উপহাসের উপাদান হিসেবে ব্যবহারকে তিনি সরাসরি অজ্ঞতা ও বর্ণবাদের বহিঃপ্রকাশ বলে মন্তব্য করেছেন।

বার্সেলোনার আরসিডিই স্টেডিয়াম-এ অনুষ্ঠিত ম্যাচটি গোলশূন্য ড্র হলেও মাঠের বাইরের ঘটনাই আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে আসে।

ম্যাচ চলাকালে গ্যালারির একাংশ থেকে মুসলিমবিরোধী স্লোগান শোনা যায়, যা দ্রুতই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে এবং সমালোচনার ঝড় তোলে।

প্রথমার্ধেই এমন আচরণের পর স্টেডিয়ামের বড় পর্দায় সতর্কবার্তা প্রচার করা হয়।

সেখানে যেকোনো ধরনের বিদ্বেষমূলক আচরণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়। তবে অভিযোগ, সেই নির্দেশনা উপেক্ষা করে দ্বিতীয়ার্ধেও একই ধরনের স্লোগান অব্যাহত থাকে।

ঘটনাটির নিন্দা জানিয়েছে স্পেনের ফুটবল কর্তৃপক্ষ। জাতীয় দলের প্রধান কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তেও কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়েছেন।

তিনি বলেন, ফুটবল মাঠে কোনো ধরনের বৈষম্য বা বিদ্বেষের জায়গা নেই এবং এমন ঘটনায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে সামাজিক মাধ্যমে নিজের প্রতিক্রিয়ায় ইয়ামাল বলেন, ‘আমি একজন মুসলিম।

স্টেডিয়ামে যে স্লোগান উঠেছে “যে লাফাবে না, সে-ই মুসলিম” তা ব্যক্তিগতভাবে আমাকে লক্ষ্য না করলেও একজন মুসলিম হিসেবে এটি অপমানজনক।’

তিনি আরও বলেন, ‘ধর্মকে কৌতুক হিসেবে ব্যবহার করা মানুষকে অজ্ঞ ও বর্ণবাদী হিসেবেই তুলে ধরে। ফুটবল আনন্দের খেলা,এখানে কারও বিশ্বাস বা পরিচয় নিয়ে বিদ্রূপের কোনো স্থান নেই।’

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইউরোপীয় ফুটবলে বর্ণবাদ ও ধর্মবিদ্বেষের বিরুদ্ধে চলমান লড়াইয়ে এই ঘটনা নতুন করে সতর্ক সংকেত দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক ফুটবল সংস্থাগুলোর কঠোর নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার দাবি আবারও জোরালো হয়ে উঠেছে।
সবশেষে সমর্থকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে ইয়ামাল বলেন, ইতিবাচক সমর্থনই ফুটবলের প্রকৃত শক্তি, এবং ভবিষ্যতের বড় আসরে—বিশেষ করে বিশ্বকাপে—ভালো পরিবেশে আবারও দেখা হবে বলে তিনি আশা করেন।