ইসরায়েলি আঘাতে লেবাননে লাশের মিছিল

লেবাননে মৃত্যুর মিছিল। ইসরায়েলি হামলায় মৃত ৮২৬, আহত ২০০৯; শিশু-নারী ও স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হওয়ায় গভীর উদ্বেগ।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে তীব্রতর হওয়া সংঘাতে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮২৬ জনে পৌঁছেছে। দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক হামলায় এখন পর্যন্ত ২০০৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে অন্তত ১০৯ জন শিশু এবং ৬৫ জন নারী রয়েছেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সতর্ক করে বলেছে, বিভিন্ন অঞ্চলে এখনও বিমান ও গোলাবর্ষণ অব্যাহত থাকায় নিহত ও আহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দক্ষিণ লেবানন

সরকারি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, চলমান সংঘাতে দক্ষিণ লেবানন, রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলি, বেকা উপত্যকা এবং পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্ত এলাকাগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব অঞ্চলে বসতবাড়ি, অবকাঠামো এবং স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রও হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

সাম্প্রতিক এক হামলায় দক্ষিণ লেবাননের একটি প্রাথমিক স্বাস্থ্যকেন্দ্রে আঘাত হানলে ১৭ জন স্বাস্থ্যকর্মী নিহত হন। এ ঘটনার পর থেকে চিকিৎসাকর্মীদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও তীব্র হয়েছে। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, এ পর্যন্ত সংঘাতে নিহত স্বাস্থ্যকর্মীর সংখ্যা বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে।

লেবানন কর্তৃপক্ষ অভিযোগ করেছে, হামলার সময় অ্যাম্বুলেন্স ও চিকিৎসাকর্মীদেরও লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে, যা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের পরিপন্থী।

দ্রুত বাড়ছে মানবিক সংকট

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংঘাত মূলত লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সামরিক উত্তেজনার অংশ। পরিস্থিতি এমন গতিতে অবনতি ঘটাচ্ছে যে এটি ২০২৩-২৪ সালের দীর্ঘ ১৩ মাসের যুদ্ধের তুলনায়ও দ্রুত মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি করছে।

জাতিসংঘ ও বিভিন্ন মানবিক সংস্থার প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, চলমান হামলা ও গোলাবর্ষণের কারণে লেবাননে ইতোমধ্যে প্রায় ৮ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। অনেক পরিবার নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দেশটির অভ্যন্তরে স্থানান্তরিত হচ্ছে।

যুদ্ধবিরতির আহ্বান জাতিসংঘের

জাতিসংঘের মহাসচিব António Guterres বৈরুত সফরকালে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে লেবাননের বিস্তীর্ণ অঞ্চল ধ্বংসস্তূপে পরিণত হতে পারে এবং মধ্যপ্রাচ্যে আরও বড় আঞ্চলিক সংঘাতের ঝুঁকি তৈরি হবে।

আন্তর্জাতিক চাপ বাড়ছে

লেবানন সরকার এবং বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থা দ্রুত হামলা বন্ধ ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছে। তবে সীমান্তে গোলাগুলি ও বিমান হামলা অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি এখনও অত্যন্ত অনিশ্চিত।

মধ্যপ্রাচ্যের এই সংঘাত আঞ্চলিক নিরাপত্তা, জ্বালানি সরবরাহ এবং বৈশ্বিক ভূরাজনীতিতে নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে বলে আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।