ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবি: ইরানের নৌ-বিমানবাহিনী ও ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি ধ্বংস

ট্রাম্প বললেন, এক সপ্তাহে অভূতপূর্ব সাফল্য; ইরানের আইআরজিসি দাবি, ছয় মাস তীব্র যুদ্ধ চালানোর সক্ষমতা রয়েছে।

বিশ্ব ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান যুদ্ধে মার্কিন বাহিনী অসাধারণ সাফল্য অর্জন করেছে। এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে তিনি বলেন, “আমরা এক সপ্তাহে যা অর্জন করেছি তা কেউ কল্পনাও করতে পারবে না।” ট্রাম্পের মতে, ইরানের নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী এবং ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা প্রায় সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়েছে।

তিনি বিশেষ করে উল্লেখ করেন, ৪৪টি ইরানি জাহাজ ধ্বংস করা হয়েছে। ক্ষেপণাস্ত্র উৎপাদন কেন্দ্রসহ বেশিরভাগ ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি। ফলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অনেক কমে গেছে। ড্রোন সক্ষমতাও ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়েছে। ট্রাম্প আরও বলেন, ইরানের শীর্ষ নেতৃত্ব নির্মূল করা হয়েছে এবং যুদ্ধ চলবে “যতক্ষণ প্রয়োজন”।

এদিকে ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) জানিয়েছে, দেশের সশস্ত্র বাহিনী বর্তমান গতিতে অন্তত ছয় মাস তীব্র যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সক্ষমতা রাখে। আইআরজিসি মুখপাত্রের বরাতে ফার্স নিউজ এজেন্সি জানায়, ইরানের সেনাবাহিনী এখনও শক্তিশালী এবং অঞ্চলজুড়ে মার্কিন-ইসরায়েলি ঘাঁটিতে ২০০-এর বেশি হামলা চালিয়েছে।

যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, কমান্ড-অ্যান্ড-কন্ট্রোল কেন্দ্র এবং ক্ষেপণাস্ত্র স্থাপনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেন্টকমের তথ্য অনুসারে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ৯০ শতাংশ কমেছে এবং ড্রোন হামলা ৮৩ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। তবে ইরান এখনও ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে প্রতিশোধমূলক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, যার মধ্যে ইসরায়েল, উপসাগরীয় দেশ এবং মার্কিন ঘাঁটি লক্ষ্য।

যুদ্ধের প্রভাব ক্রমশ বিস্তার লাভ করছে। তেলের দাম বৃদ্ধি, বৈশ্বিক বাজারে অস্থিরতা এবং আঞ্চলিক সংঘাতের আশঙ্কা বেড়েছে। ট্রাম্প বারবার “নিঃশর্ত আত্মসমর্পণ” দাবি করলেও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীসহ শীর্ষ নেতারা যুদ্ধবিরতির সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানালেও কোনো পক্ষই পিছু হটার লক্ষণ দেখাচ্ছে না।

(সূত্র: আল জাজিরা, রয়টার্স, বিবিসি, সিএনএন, ফার্স নিউজ এজেন্সি, সেন্টকম ও আইআরজিসি বিবৃতি)