পাকিস্তানে তেলের দাম হঠাৎ বৃদ্ধি

পেট্রোল ও হাই-স্পিড ডিজেল লিটার প্রতি ৫৫ টাকা বেড়ে প্রায় ২০% বৃদ্ধি।

টুইট ডেস্ক: পাকিস্তান সরকার ঘোষণা করেছে যে, পেট্রোল (মোটর স্পিরিট) এবং হাই-স্পিড ডিজেল (এইচএসডি)–এর দাম প্রতি লিটার ৫৫ টাকা বৃদ্ধি পেয়েছে।

নতুন দাম শুকবার (৬ মার্চ) মধ্যরাত থেকে কার্যকর হয়েছে। এই পরিবর্তনের ফলে পেট্রোলের দাম এখন ৩২১.১৭ টাকা প্রতি লিটার এবং হাই-স্পিড ডিজেলের দাম ৩৩৫.৮৬ টাকা প্রতি লিটার পৌঁছেছে। আগের দাম ছিল যথাক্রমে ২৬৬.১৭ টাকা ও ২৮০.৮৬ টাকা, যা প্রায় ২০%–এর বেশি বৃদ্ধি।

পাশাপাশি, এই বৃদ্ধির পেছনে আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাবও গুরুত্বপূর্ণ। মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা, বিশেষত যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল-ইরান সংঘর্ষ, হরমুজ প্রণালীয়ে তেলের সরবরাহে বিঘ্ন ঘটিয়েছে। এই কারণে আন্তর্জাতিক ক্রুড তেলের দাম সাম্প্রতিক দিনে $৭৮ থেকে $১০৬ প্রতি ব্যারেল পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্ববাজারে সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি, ফ্রেইট ও বীমার খরচও বেড়ে গেছে, যা দেশীয় বাজারে মূল্যবৃদ্ধির দিকে ধাবিত করেছে।

সরকারিভাবে জানানো হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে উপ-প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ ইসহাক দার, অর্থমন্ত্রী মোহাম্মদ অরঙ্গজেব, এবং তেলমন্ত্রী আলি পারভেজ মালিক–এর উচ্চপর্যায়ের বৈঠকের পরে। ডিজেলের উপর পেট্রোলিয়াম লেভি কমানো হয়েছে (৭৬.২১ টাকা থেকে ৫৫ টাকা প্রতি লিটার), তবে নেট বৃদ্ধি এখনও ৫৫ টাকা।

সরকার জানিয়েছে যে, তেলের দাম এখন সাপ্তাহিক ভিত্তিতে পর্যালোচনা করা হবে, যাতে বাজারে অস্থিরতার প্রভাব নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।

জনমতের দিক থেকে এই মূল্যবৃদ্ধি বিরোধী দলগুলো এবং সাধারণ জনগণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে।

পিপিপি ও পিটিআই–এর নেতারা মন্তব্য করেছেন যে এটি সাধারণ মানুষের ওপর ভারী বোঝা। আগেই দারিদ্র্য এবং মুদ্রাস্ফীতি প্রবল হওয়ায় সাধারণ মানুষ নতুন এই ব্যয়ভার মোকাবিলা করতে কঠিন অবস্থার মুখে পড়বে। সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক ক্ষোভ দেখা গেছে, অনেকেই এই বৃদ্ধিকে “জনগণের জন্য ফুয়েল বোমা” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

অর্থনৈতিক প্রভাব ইতিমধ্যেই পড়তে শুরু করেছে। যাতায়াত খরচ বেড়ে গেছে, পণ্য পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাবে, খাদ্যদ্রব্যের দামও বাড়তে পারে। ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ও পরিবহন খাত উচ্চ খরচের চাপের মুখে পড়বে, যা সামগ্রিক মুদ্রাস্ফীতিকে আরও ত্বরান্বিত করবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, পাকিস্তানের তেল বাজার বর্তমানে আন্তর্জাতিক অস্থিরতা এবং মধ্যপ্রাচ্য সংকটের সঙ্গে সরাসরি সংযুক্ত, যা দেশীয় মূল্যস্তরের ওপর প্রভাব ফেলছে। দূরদর্শী পরিকল্পনা ছাড়া, সাধারণ মানুষ এবং ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানরা উচ্চ খরচ ও মূল্যস্ফীতির চাপের মুখে পড়তে বাধ্য।