তেহরানে কূটনৈতিক পুলিশ সদরদপ্তর ধ্বংস

যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলাকে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন আখ্যা ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্রের

টুইট ডেস্ক: ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এসমাইল বাকাই অভিযোগ করেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় তেহরানে ইরানের কূটনৈতিক পুলিশ সদরদপ্তর সম্পূর্ণভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। এই সংস্থার প্রধান দায়িত্ব বিদেশি দূতাবাস ও কূটনৈতিক মিশনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।

বৃস্পতিবার (৫ মার্চ) বাকাই বলেন, এ ধরনের হামলা কূটনীতিকে সচেতনভাবে দুর্বল করার একটি গুরুতর দৃষ্টান্ত।

তিনি জানান, যুদ্ধের পঞ্চম দিনে তেহরানের তুর্কমেনিস্তান সড়কে অবস্থিত কূটনৈতিক পুলিশ কেন্দ্রটি লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া স্থাপনাটির চিত্র দেখা গেছে।

আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ

বাকাই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে বলেন, কূটনৈতিক আলোচনার প্রেক্ষাপটে একটি জাতিসংঘ সদস্য রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা লঙ্ঘন করা হয়েছে। তাঁর ভাষায়, এটি আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতির পরিপন্থী এবং সভ্যতার মানদণ্ডের সম্পূর্ণ বিরোধী।

ইরানের দাবি, সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে শুধু নিরাপত্তা বাহিনীর স্থাপনা নয়, বেসামরিক এলাকাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক স্থাপনায় ক্ষয়ক্ষতির কথাও জানানো হয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমগুলোর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামলার লক্ষ্যবস্তু হিসেবে পুলিশ কেন্দ্র, গোয়েন্দা কার্যালয় ও বিশেষ বাহিনীর সদরদপ্তর অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, কূটনৈতিক পুলিশের মতো সংবেদনশীল স্থাপনায় হামলা বিদেশি মিশনগুলোর নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে। ইরান এ ঘটনাকে যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী কর্মকাণ্ডের ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছে।

অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে নির্দিষ্ট কোনো ব্যাখ্যা এখনো দেওয়া হয়নি। পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে আঞ্চলিক কূটনৈতিক সম্পর্ক আরও অবনতির আশঙ্কা রয়েছে।

পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে।