কুয়েতের আকাশে ভুল গুলিতে তিন মার্কিন যুদ্ধবিমান ভূপাতিত

ছবি: এক্স ভিডিও

কুয়েতি এফ/এ–১৮ থেকে ছোড়া তিন ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্যভেদ, ছয় ক্রু সদস্য প্যারাশুটে উদ্ধার।

টুইট প্রতিবেদক: মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনাপূর্ণ প্রেক্ষাপটে রোববার (১ মার্চ ২০২৬) কুয়েতের আকাশে এক গুরুতর সামরিক দুর্ঘটনা ঘটেছে। একটি কুয়েতি এফ/এ–১৮ হর্নেট যুদ্ধবিমানের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি এফ–১৫ই স্ট্রাইক ঈগল ভূপাতিত হয়েছে বলে প্রাথমিক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

মার্কিন সংবাদপত্র দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল প্রথমে এ তথ্য প্রকাশ করে। পরে আন্তর্জাতিক সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানায়, ঘটনার প্রাথমিক তদন্ত সম্পর্কে অবগত তিনটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। তবে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে স্বাধীনভাবে তথ্য যাচাই করতে পারেনি।

কীভাবে ঘটল দুর্ঘটনা

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একজন কুয়েতি পাইলট তার এফ/এ–১৮ হর্নেট থেকে তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেন এবং প্রতিটি ক্ষেপণাস্ত্র পৃথকভাবে একটি করে মার্কিন এফ–১৫ই স্ট্রাইক ঈগলকে আঘাত করে। তিনটি বিমানই ধ্বংস হয়।

সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, যৌথ টহল বা সমন্বিত অভিযানের সময় পরিচয় শনাক্তকরণে বিভ্রান্তি, যোগাযোগ ব্যবস্থার ত্রুটি বা প্রযুক্তিগত ভুলের কারণে এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে। তবে আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিতভাবে কারণ নির্ধারণ সম্ভব নয়।

ছয় ক্রু সদস্য নিরাপদ

প্রতিটি এফ–১৫ই স্ট্রাইক ঈগল যুদ্ধবিমানে দুজন করে ক্রু সদস্য—একজন পাইলট ও একজন অস্ত্রব্যবস্থা কর্মকর্তা—দায়িত্বে ছিলেন। তিনটি বিমান থেকে মোট ছয়জনই প্যারাশুটে নেমে নিরাপদে উদ্ধার হয়েছেন। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, তাদের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি ঘটনাটি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়, তবে এটি মিত্র দেশগুলোর মধ্যে সামরিক সমন্বয় ও আকাশসীমা নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন প্রশ্ন তুলতে পারে। বিশেষ করে আঞ্চলিক উত্তেজনার সময় এমন দুর্ঘটনা কৌশলগত আস্থায় প্রভাব ফেলতে পারে।

এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর প্রতিরক্ষা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বিবৃতি ও তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের দিকে নজর রাখছে আন্তর্জাতিক মহল।