চট্টগ্রামের রাউজানে প্রকাশ্যে যুবদল কর্মীকে গুলি করে হত্যা

সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ৭:৩০ মিনিটের মধ্যে রাউজান বাজারে দুর্বৃত্তদের গুলিতে যুবদল কর্মী নিহত; তদন্তে পুলিশ, এখনও গ্রেপ্তার নেই!
টুইট ডেস্ক: চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলার পূর্ব গুজরা ইউনিয়নের অলিমিয়াহাট বাজারে বুধবার সন্ধ্যায় প্রকাশ্যে গুলি চালিয়ে এক যুবদল কর্মীকে হত্যা করা হয়েছে। স্থানীয়রা এবং পুলিশ সূত্রে জানা গেছে বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি), সন্ধ্যা সাড়ে ৭টা থেকে ৭:৩০ মিনিটের মধ্যে এ ঘটনাটি ঘটেছে।
হত্যার পরিস্থিতি ও মৃতের পরিচয়
নিহত যুবদল কর্মীর নাম মুহাম্মদ আব্দুল মজিদ (ওরফে মুজিব/মুজিব ভান্ডারী), বয়স আনুমানিক ৫০-৬০ বছর। তিনি পূর্ব গুজরা ইউনিয়ন যুবদলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন এবং স্থানীয় অলিমিয়াহাট এলাকার বাসিন্দা ছিলেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ইফতারের পর মুজিব বাজারের একটি দোকানের সামনে বসে ছিলেন। তখন হঠাৎ করে মুখোশধারী ২-৩ জন দুর্বৃত্ত মোটরসাইকেলে এসে তাঁকে লক্ষ্য করে গুলি চালায়। গুলি লাগে চোখের ওপরে, বুকে ও কোমরে—মোট তিনটি গুলিকাণ্ড হতে দেখা যায়। গুরুতর অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাউজান উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান, যেখানে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
ঘটনাস্থলটি পূর্ব গুজরা পুলিশ তদন্তকেন্দ্র থেকে মাত্র প্রায় ৫০০ মিটার দূরে, একটি জনবহুল বাজার এলাকা।
পুলিশের অবস্থান ও শোক সন্তপ্ত স্বজনদের বক্তব্য
রাউজান থানার ওসি সাজেদুল ইসলাম ও বেলায়েত হোসেন—রাঙ্গুনিয়া সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার (এএসপি) বলেছেন, “ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে এবং তদন্ত শুরু হয়েছে। নিহতের মরদেহ উদ্ধার করে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গ-এ পাঠানো হয়েছে। এর ব্যাকগ্রাউন্ড ও ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।”
নিহতের স্ত্রী শাহনাজ বেগম বলেন, এর আগেও তার স্বামীর ওপর হামলার চেষ্টা হয়েছিল। কিন্তু প্রতিবার তিনি প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। আজকের হত্যাকাণ্ডে তিনি শোকাহত এবং দ্রুত বিচার দাবি করেছেন।
গ্রেপ্তার ও তদন্ত
এ ঘটনায় এখনো কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। পুলিশ ও তদন্তকারী দল ঘটনাস্থলে থেকে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করেছে এবং সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ, মোটরসাইকেলের সন্ধানসহ অন্যান্য প্রমাণাদি খতিয়ে দেখছে।
রাউজান উপজেলায় গত কয়েক মাসে একাধিক রাজনৈতিক-সংশ্লিষ্ট হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। রাজনৈতিক উত্তেজনা ও সংঘাতের কারণে নিরাপত্তা পরিস্থিতি উদ্বেগজনক পর্যায়ে পৌঁছেছে বলে কিছু স্থানীয় সংবাদমাধ্যম উল্লেখ করেছে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় আরও কঠোর পদক্ষেপের প্রয়োজন, যাতে সাধারণ জনগণ নিরাপদ ও সন্ত্রাসমুক্ত পরিবেশে জীবনযাপন করতে পারে।






