পুলিশের ২০০৬ সালের বাতিল নিয়োগ পুনর্বহাল হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের ঘোষণা, প্রায় ৬৫০ সাব-ইন্সপেক্টর ও সার্জেন্ট চাকরিতে পুনর্বহাল পাবেন, পুলিশের খালি পদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। নিয়োগ বাতিলের ১৯ বছরের লড়াইয়ে ন্যায়বিচার।
টুইট প্রতিবেদক: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের জানান, ২০০৬ সালে দলীয় প্রভাবের অভিযোগে চূড়ান্ত তালিকা বাতিল হওয়া প্রায় সাড়ে ৬০০ জন পুলিশ সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) ও সার্জেন্ট অবশ্যই চাকরিতে পুনর্বহাল পাবেন।
মন্ত্রী বলেন, “তাদের ফাইল প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে পেন্ডিং ছিল এবং শেষ পর্যন্ত অনুমোদন হয়নি। আদালতের রায় অনুসারে আমরা প্রস্তাব পাঠিয়েছি। তারা ন্যায়বিচার পাবেন এবং নিয়োগ পাবেন।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, পুলিশ বাহিনীতে জনবলের ঘাটতি পূরণে জরুরি ভিত্তিতে নতুন নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। বর্তমানে পুলিশের ২,৭০১টি কনস্টেবল পদ খালি রয়েছে এবং এই পদগুলোতে দ্রুত নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সতর্ক করে বলেন, “কেউ পুলিশের কাজে অবৈধভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারবে না। যারা বাধা বা হস্তক্ষেপ করবে, তাদের বিরুদ্ধে সঙ্গে সঙ্গে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
২০০৬ সালে বাংলাদেশ পুলিশের সাব-ইন্সপেক্টর ও সার্জেন্ট পদে মোট ৭৫৭ জন প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছিলেন। লিখিত পরীক্ষা ফেব্রুয়ারি এবং মৌখিক পরীক্ষা সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হয়। অনেক প্রার্থী তখন রাজশাহীর সারদা পুলিশ একাডেমিতে যোগদানের অপেক্ষায় ছিলেন। কিন্তু ২০০৭ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন আইজিপি নূর মোহাম্মদ এবং ডিআইজি বেনজীর আহমেদ (পরবর্তীতে আইজিপি) নির্দেশে চূড়ান্ত তালিকা বাতিল করা হয়। বাতিলের মূল অভিযোগ ছিল “দলীয় বিবেচনায়” নিয়োগ প্রদান।
বাতিলের ফলে প্রার্থীরা দীর্ঘদিন চাকরিহীন অবস্থায় ছিলেন। তারা বিভিন্ন সময়ে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধন এবং আদালতের মাধ্যমে ন্যায়বিচার দাবি করেছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে জাতীয় প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে পুনর্বহালের দাবি জানানো হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালে স্বরাষ্ট্র, জনপ্রশাসন, আইন মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সদর দপ্তরের কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠিত হয়, যা মে মাসে নিয়োগ বাতিল প্রত্যাহার করে পুনর্বহালের সুপারিশ করে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ঘোষণাটি দীর্ঘ ১৯–২০ বছরের লড়াইয়ের পর প্রার্থীদের জন্য ন্যায়বিচারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে দেখা হচ্ছে।






