তারাগঞ্জে নির্বাচনী জনসভায় ভোটাধিকার পুনরুদ্ধারের আহ্বান

ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনে জামায়াতের বিকল্প নেই: এটিএম আজহারুল ইসলাম।
আব্দুল্লাহিল শাহীন, তারাগঞ্জ (রংপুর): ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর তারাগঞ্জ উপজেলার আলমপুর ইউনিয়ন শাখার উদ্যোগে এক বিশাল নির্বাচনী জনসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (৩১ জানুয়ারি) রাতে উপজেলার তেতুলতলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এ জনসভায় বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের উপস্থিতিতে মাঠ কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে।
জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন রংপুর-২ (বদরগঞ্জ-তারাগঞ্জ) আসনে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত সংসদ সদস্য প্রার্থী ও দলটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম।
বক্তব্যে তিনি বলেন, “ইনসাফ ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য জামায়াতে ইসলামীর কোনো বিকল্প নেই। মানবিক, দুর্নীতিমুক্ত ও কল্যাণভিত্তিক সমাজ গড়তে হলে ইসলামী আদর্শভিত্তিক রাজনীতিই একমাত্র পথ।”
তিনি অভিযোগ করেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ তাদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত ছিল। পতিত আওয়ামী লীগ সরকার পরিকল্পিতভাবে ভোট চুরির সংস্কৃতি চালু করে গণতন্ত্রকে ধ্বংস করেছে। সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখেছে, তাদের ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে।
এটিএম আজহারুল ইসলাম আরও বলেন, “ভোট চুরিতে চ্যাম্পিয়ন খুনি হাসিনার সরকার অবশেষে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্রসমাজের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে পিছু হটতে বাধ্য হয়েছে।”
নিজের রাজনৈতিক জীবনের তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিনা অপরাধে তাকে টানা ১৪ বছর কারাবন্দি রাখা হয়েছিল এবং তার বিরুদ্ধে তিনটি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়। তবে মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি আজ মুক্ত হয়ে জনগণের সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন।
তিনি বলেন, “আমার জীবনে আর কোনো ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া নেই। দেশের মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং ইনসাফভিত্তিক সমাজ গড়তে বাকি জীবন উৎসর্গ করতে চাই।”
এ জন্য তিনি দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকে জনগণের সেবা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান।
ক্ষমতায় গেলে জামায়াতে ইসলামীর কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দলটি ত্রাণের স্লিপনির্ভর সাময়িক সহানুভূতির রাজনীতি নয়; বরং স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে মানুষের আত্মমর্যাদাশীল জীবন নিশ্চিত করতে চায়। পাশাপাশি দুর্নীতি, লুটপাট, চাঁদাবাজি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, “এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়—এটি ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম।”
জনসভায় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, যুবক, ছাত্র ও বিপুল সংখ্যক সাধারণ ভোটার উপস্থিত ছিলেন।






