গাজীপুরে কাজে ফিরেছেন পোশাকশ্রমিকরা, পুরোদমে চলছে উৎপাদন

মজুরি বৃদ্ধির সুপারিশে মালিক-শ্রমিকের সম্মতির পর স্বাভাবিক হয়েছে শিল্পাঞ্চল
টুইট ডেস্ক : টানা কয়েক দিনের শ্রমিক অসন্তোষ, সড়ক অবরোধ ও সংঘর্ষের পর গাজীপুরের শিল্পাঞ্চলে স্বাভাবিক হয়েছে কর্মপরিবেশ। মজুরি বোর্ডের বেতন বৃদ্ধির সুপারিশে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের সম্মতির পর আন্দোলন থেকে সরে কাজে ফিরেছেন শ্রমিকরা। শুরু হয়েছে কারখানাগুলোর স্বাভাবিক উৎপাদন কার্যক্রম।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল থেকে গাজীপুরের কোনাবাড়ী, শফিপুর, পল্লী বিদ্যুৎ, চন্দ্রা, বাসন সড়ক, টঙ্গী, সালনা, বাংলাবাজারসহ শ্রীপুর উপজেলার বিভিন্ন শিল্পকারখানায় নির্ধারিত সময়ে কাজে যোগ দেন শ্রমিকরা। সকাল থেকে কোথাও শ্রমিক বিক্ষোভ বা অপ্রীতিকর ঘটনার খবর পাওয়া যায়নি।
শ্রমিকরা জানান, সরকার গঠিত মজুরি বোর্ডের বেতন বৃদ্ধির সুপারিশ এবং তা বাস্তবায়নের আশ্বাসে তাঁরা কাজে ফিরেছেন। নতুন মজুরি ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। বর্ধিত বেতন পাওয়া যাবে আগামী জানুয়ারি থেকে।
প্যারাগন সোয়েটারের নারী শ্রমিক রিনা আক্তার বলেন, কয়েক দিনের অস্থিরতার পর তাঁরা আবার কাজে যোগ দিয়েছেন। তাঁরা কোনো বিশৃঙ্খলা চান না, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে কাজ করে পরিবার নিয়ে ভালোভাবে বাঁচতে চান।
মস্কো গ্রুপের মেশিন অপারেটর সুমন মিয়া বলেন, কারখানাগুলো স্বাভাবিকভাবে চলুক, এটাই তাঁদের প্রত্যাশা। আন্দোলন ও সংঘর্ষে শ্রমিকদেরই বেশি ক্ষতি হয়। মজুরি বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হলে তাঁরা উপকৃত হবেন।
গাজীপুর শিল্পাঞ্চল পুলিশের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আমজাদ হোসাইন জানান, শিল্পাঞ্চলের সার্বিক পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। শ্রমিকরা যথারীতি কাজে যোগ দিয়েছেন। নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে শিল্প পুলিশের সদস্যরা মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন।
গাজীপুরের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো. সোহেল রানা জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে র্যাব, বিজিবি, পুলিশ ও আনসারসহ মোট ২১ প্লাটুন সদস্য বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। শিল্পাঞ্চলে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখা এবং উৎপাদন কার্যক্রম নির্বিঘ্ন রাখতে নিরাপত্তাব্যবস্থা অব্যাহত রয়েছে।
উল্লেখ্য, ন্যূনতম মাসিক মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণের দাবিতে অক্টোবরের শেষ দিকে গাজীপুরের বিভিন্ন শিল্পকারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। ৩১ অক্টোবর শ্রমিকদের বিক্ষোভ, মহাসড়ক অবরোধ, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে শ্রমিক ও পুলিশ সদস্য আহত হন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশ কয়েকটি কারখানায় ছুটি ঘোষণা এবং অতিরিক্ত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল।






