ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাথায় কাফন বেঁধে সড়ক-রেলপথ অবরোধ, আটকা ৭ ট্রেন

ছয়টি গ্রাম পুনর্বহাল ও উপজেলা বিভক্তির প্রস্তাব বাতিলের দাবিতে এলাকাবাসীর কর্মসূচি
টুইট ডেস্ক : ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার কোড্ডা কেবিন এলাকায় মাথায় কাফনের কাপড় বেঁধে সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেছেন বিক্ষুব্ধ এলাকাবাসী। এতে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-সিলেট রুটে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। বিভিন্ন স্টেশনে আটকা পড়েছে অন্তত সাতটি আন্তঃনগর ট্রেন। ভোগান্তিতে পড়েছেন যাত্রীরা।
রোববার (৮ নভেম্বর) সকাল থেকে বাসুদেব ইউনিয়নবাসীর ব্যানারে এ কর্মসূচি শুরু হয়। অখণ্ড বাসুদেব ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম পুনর্বহাল এবং সদর উপজেলা বিভক্তির প্রস্তাবের প্রতিবাদে তাঁরা এ অবরোধ করেন।
রেলওয়ে সূত্রে জানা গেছে, অবরোধের কারণে নোয়াখালী থেকে ঢাকাগামী উপকূল এক্সপ্রেস কসবা স্টেশনে, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকাগামী সুবর্ণ এক্সপ্রেস আখাউড়া জংশনে এবং ঢাকা থেকে সিলেটগামী পারাবত এক্সপ্রেস ব্রাহ্মণবাড়িয়া স্টেশনে আটকা পড়েছে।
এ ছাড়া ঢাকা থেকে কক্সবাজারগামী পর্যটক এক্সপ্রেস ভৈরব বাজার স্টেশনে, ঢাকা থেকে চট্টগ্রামগামী সোনার বাংলা এক্সপ্রেস তালশহর স্টেশনে ও মহানগর প্রভাতী শ্রীনিধি স্টেশনে এবং সিলেট থেকে ঢাকাগামী কালনী এক্সপ্রেস মুকুন্দপুর স্টেশনে দাঁড়িয়ে রয়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের মে মাসে বাসুদেব ইউনিয়নের ছয়টি গ্রাম—কোড্ডা, বৈষ্ণবপুর, শ্যামনগর, কোড়াবাড়ি, চান্দি ও বরিশল নিয়ে ‘বরিশল’ নামে নতুন ইউনিয়ন পরিষদ গঠন করে তা আখাউড়া উপজেলার সঙ্গে যুক্ত করা হয়। গত ৪ জুন এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশিত হলে শুরু থেকেই প্রতিবাদ জানিয়ে আসছেন বাসুদেব ইউনিয়নবাসী।
সম্প্রতি সদর উপজেলার বাসুদেব, সুলতানপুর ও রামরাইল ইউনিয়ন ভেঙে নতুন ‘বরিশল’ উপজেলা গঠনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। তাঁদের অভিযোগ, জেলা বিএনপি নেতা কবির আহমেদ ভূঁইয়ার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ থেকে দাপ্তরিক চিঠি পাঠানো হয়েছে। এ নিয়ে এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দিয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খাইরুল আলম অবরোধের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছেছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়ানো এবং জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সেখানে পুলিশ দায়িত্ব পালন করছে।






