বিশ্বজুড়ে মার্কিন স্থাপনায় হামলার হুমকি ইরানের

যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালালে ভৌগোলিক সীমা ছাড়িয়ে মার্কিন সামরিক ও অন্যান্য স্থাপনায় আঘাতের হুঁশিয়ারি তেহরানের; সাত শর্ত পূরণ না হলে হরমুজ প্রণালি খুলবে না বলেও জানিয়েছে ইরান।

টুইট প্রতিবেদক: যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানে নতুন করে সামরিক হামলা শুরু করে, তাহলে বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা মার্কিন সম্পদ ও স্থাপনায় পাল্টা আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ আকরামিনিয়া শুক্রবার রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে এ সতর্কবার্তা দেন।

আকরামিনিয়া বলেন, দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়ার বাইরেও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন সামরিক ঘাঁটি রয়েছে। এসব ঘাঁটিতে দেশটির সামরিক সরঞ্জাম ও বাহিনী মোতায়েন আছে। ইরান আক্রান্ত হলে ভৌগোলিক সীমাবদ্ধতা বিবেচনা না করেই বিশ্বজুড়ে মার্কিন শত্রুর সব ধরনের বস্তুগত ও অবস্তুগত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে নতুন করে যুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সংঘাত এড়াতে মধ্যস্থতাকারীরা কূটনৈতিক তৎপরতা জোরদার করেছেন। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মঙ্গলবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, নির্বাচনের পর ইরানে সামরিক অভিযান পুনরায় শুরুর সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনার ক্ষেত্রে সাতটি শর্ত দিয়েছে ইরান। দেশটির সর্বোচ্চ নিরাপত্তা সংস্থা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের প্রধান মেজর জেনারেল মোহসেন রেজায়ি বৃহস্পতিবার রাশিয়া সফরকালে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ পর্যন্ত ইরানের দেওয়া সাতটি শর্ত পূরণ না করবে, ততক্ষণ হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা হবে না এবং কোনো আলোচনাতেও বসবে না তেহরান।

ইরানের শর্তগুলোর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার, জব্দ করা ইরানি সম্পদ অবমুক্ত করা এবং যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ প্রদান। এ ছাড়া আরও কয়েকটি বিষয় শর্তের অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে জানান রেজায়ি।

উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। এর জবাবে ইসরায়েল এবং উপসাগরীয় দেশগুলোতে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালায় ইরান। একই সময়ে লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ ও ইসরায়েলের মধ্যে সংঘাত ছড়িয়ে পড়ে।

পরবর্তী সময়ে সংঘাতের বিস্তৃতি ইয়েমেন পর্যন্ত পৌঁছায়। সেখান থেকে ইরানঘনিষ্ঠ হুথিরা সৌদি আরবের জ্বালানি স্থাপনা, বিমানবন্দরসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বিশ্লেষকদের দৃষ্টিতে, ইরানের এই হুঁশিয়ারি মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আঞ্চলিক সীমানার বাইরে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি আরও বাড়িয়ে তুলেছে। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালি বন্ধ রাখার অবস্থান আন্তর্জাতিক জ্বালানি সরবরাহ ও সামুদ্রিক বাণিজ্যের ওপর নতুন চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

সূত্র: গালফ নিউজ ও ঢাকা পোস্ট।