শাহজালাল বিমানবন্দরের সেবায় সন্তুষ্ট যাত্রীরা, মিলছে ২০ মিনিটেই লাগেজ

আগের তুলনায় শৃঙ্খলা ও সেবার মান বেড়েছে বলে জানিয়েছেন যাত্রীরা; টার্মিনাল ১ ও ২ নির্দিষ্ট ফ্লাইটের জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনা সরকারের।

টুইট প্রতিবেদক: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সেবার মান ও ব্যবস্থাপনায় সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন যাত্রীরা। আগের তুলনায় বিমানবন্দরে শৃঙ্খলা বেড়েছে এবং লাগেজ পেতেও অপেক্ষা করতে হচ্ছে কম সময়। কোনো কোনো যাত্রীর ভাষায়, এত সুন্দর ও সুশৃঙ্খলভাবে বিমানবন্দর আগে কখনো দেখেননি তারা।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বিমানবন্দরে আকস্মিক পরিদর্শন শেষে যাত্রীদের সঙ্গে কথা বলে এসব তথ্য জানান বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।

পরিদর্শন শেষে বিমানবন্দরের ভিআইপি ফটকে সাংবাদিকদের মন্ত্রী জানান, একই সময়ে চারটি উড়োজাহাজ অবতরণ করায় যাত্রীদের চাপ ছিল অনেক বেশি। ছয়টি লাগেজ বেল্টই তখন ব্যস্ত ছিল। এরপরও যাত্রীরা ১৫ থেকে ২০ মিনিটের মধ্যে লাগেজ হাতে পেয়েছেন বলে জানিয়েছেন।

মন্ত্রী বলেন, যাত্রীদের সঙ্গে সরাসরি কথা বলে তাদের সন্তুষ্টির বিষয়টি জানতে পেরেছেন। দেড় মাস আগে বিমানবন্দর ব্যবহার করেছেন, এমন যাত্রীরাও জানিয়েছেন, আগের মতো সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে না। বর্তমান পরিস্থিতি অব্যাহত রাখার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।

বিমানবন্দরের অতীতের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নামের বিষয়টি স্বীকার করে মন্ত্রী বলেন, আগে লাগেজ ভাঙা কিংবা কেটে যাওয়ার মতো অভিযোগ ছিল। তবে ধীরে ধীরে পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে। বর্তমানে যাত্রীরা এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছেন না বলে জানিয়েছেন।

তৃতীয় টার্মিনাল নিয়ে মন্ত্রীর বক্তব্য

তৃতীয় টার্মিনাল প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে নতুন বিমানবন্দর নির্মাণের প্রয়োজনীয়তা তিনি দেখছেন না। তবে এই দূরত্বের মধ্যে বিমানবন্দর নির্মাণ বা পরিচালনার ক্ষেত্রে কোনো নিষেধাজ্ঞা নেই।

তিনি বলেন, বিমানবন্দর নির্মাণ এবং পরিচালনা দুটি আলাদা বিষয়। একটি বিমানবন্দর নির্মাণ করতে ১০ বছর পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

এ প্রসঙ্গে সিঙ্গাপুরের উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী জানান, দেশটির পঞ্চম টার্মিনাল নির্মাণের কাজ ১২ বছর ধরে চলছে। সম্প্রতি সিঙ্গাপুরের হাইকমিশনারের সঙ্গে আলোচনায় তিনি এ তথ্য জানতে পেরেছেন।

নির্দিষ্ট ফ্লাইটের জন্য আলাদা টার্মিনালের পরিকল্পনা

বিমানবন্দরের টার্মিনাল ১ ও ২ নির্দিষ্ট ধরনের ফ্লাইট পরিচালনার জন্য ব্যবহারের পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছেন মন্ত্রী।

তার ভাষ্য অনুযায়ী, স্বল্প খরচের বিমান সংস্থা, অভ্যন্তরীণ উড়োজাহাজ চলাচল এবং হজযাত্রীদের ফ্লাইটের জন্য টার্মিনাল দুটি নির্দিষ্ট করার পরিকল্পনা রয়েছে। এতে হজের বিশেষ ফ্লাইট ও ভাড়ায় পরিচালিত উড়োজাহাজের কার্যক্রম আরও নির্বিঘ্ন করা সম্ভব হবে।

বিমানবন্দরের যাত্রীসেবায় দৃশ্যমান উন্নতির দাবি সামনে এলেও এই মান দীর্ঘমেয়াদে ধরে রাখা এবং ব্যবস্থাপনার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করাই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।