ইরানের সামরিক সরঞ্জাম আমদানিতে ৫ হাজারের বেশি গোপন সংস্থা

২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত অন্তত ২ বিলিয়ন ডলারের সরঞ্জাম আমদানি; একটি সংস্থার নামে আমদানি ২.৩ বিলিয়ন ডলারের

বিশ্ব ডেস্ক: পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞা ও যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের মধ্যেও সামরিক সরঞ্জাম আমদানি অব্যাহত রেখেছে ইরান। এ কাজে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়-সংশ্লিষ্ট পাঁচ হাজারের বেশি গোপন সংস্থার একটি নেটওয়ার্ক ব্যবহারের তথ্য উঠে এসেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের অনুসন্ধানে।

রয়টার্সের ২৯ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত এই নেটওয়ার্কের মাধ্যমে অন্তত ২ বিলিয়ন ডলারের সামরিক সরঞ্জাম, বিস্ফোরক ও ভারী যানবাহন আমদানি করেছে ইরান। ‘MOD 346428’ নামের একটি সংস্থার মাধ্যমেই প্রায় ২ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানির তথ্য পাওয়া গেছে।

আমদানি করা পণ্যের মধ্যে রয়েছে রকেটের জ্বালানি তৈরির রাসায়নিক উপাদান, বিস্ফোরক, ডেটোনেটর, টাইটানিয়াম, উড়োজাহাজের যন্ত্রাংশ, শিল্পকারখানার সূক্ষ্ম যন্ত্রপাতি এবং ভারী ট্রাক। এসব পণ্যের কিছু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন তৈরিতে ব্যবহারযোগ্য। তবে সব পণ্যই সামরিক কাজে ব্যবহারের জন্য আমদানি করা হয়েছে—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি।

চীন থেকে কার্গো বিমানে সরবরাহ

রয়টার্সের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, চীন, রাশিয়া ও অন্যান্য দেশ থেকে আকাশ, সমুদ্র ও স্থলপথে ইরানে পণ্য পৌঁছেছে। চীন থেকে কার্গো বিমানে, রাশিয়া থেকে ক্যাস্পিয়ান সাগর পেরিয়ে জাহাজে এবং মধ্য এশিয়া থেকে ট্রাকে সরঞ্জাম আনা হয়েছে।

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে চীন থেকে ৯৩ টন টাইটানিয়াম ও কয়েক শ টন রাসায়নিক উপাদান আমদানির তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত ‘MOD 346428’ সংস্থার নামে ৪৩৫টি ইভেকো ট্রাক আমদানি করা হয়। এসব ট্রাকের কিছু মডেল পরিবর্তন করে মোবাইল ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণযান হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব।

রয়টার্সের প্রশ্নের জবাবে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, প্রতিবেদনে উল্লেখ করা সরবরাহ সম্পর্কে তারা অবগত নয়। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সংঘাতের সঙ্গে চীনকে জড়ানোর প্রচেষ্টার বিরোধিতা করে বেইজিং।

তবে রয়টার্সের পর্যালোচনা করা আমদানি নথিতে চীন থেকে আসা পণ্য ও কার্গো বিমানে সরবরাহের তথ্য পাওয়া গেছে। পণ্যের উৎস চীন হওয়া অবশ্য চীন সরকার সরাসরি সামরিক সরবরাহে জড়িত থাকার প্রমাণ নয়।

রয়টার্সের অনুসন্ধানে আরও উঠে এসেছে, ইরান বিদেশি মধ্যস্থতাকারী ও বিভিন্ন দেশের কোম্পানির মাধ্যমে এসব পণ্য সংগ্রহ করেছে। পর্যালোচনা করা চালানের ৯৭ শতাংশের লেনদেনে সরাসরি মুদ্রা স্থানান্তরের তথ্য ছিল না। তেল বিক্রির অর্থ ও বিদেশে থাকা তহবিল ব্যবহার করে নিষেধাজ্ঞা এড়িয়ে এসব কেনাকাটা করা হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সূত্র: রয়টার্স