আনোয়ারায় আগুনে পুড়ল তিন ঘর, ছাই ৭০ হাজার টাকা

কিস্তির টাকা ও চিকিৎসার সঞ্চয় হারিয়ে দিশেহারা পরিবার; ক্ষতির পরিমাণ নিয়ে পরিবার ও ফায়ার সার্ভিসের হিসাবে অমিল।
টুইট প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের আনোয়ারা উপজেলায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে তিনটি বসতঘর পুড়ে গেছে। আগুনে ঘরের আসবাবপত্র, ধান, প্রয়োজনীয় মালামালের পাশাপাশি ঋণের কিস্তি পরিশোধের জন্য জমানো ৭০ হাজার টাকাও পুড়ে ছাই হয়েছে। এতে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে কয়েকটি পরিবার। বিশেষ করে পায়ের চিকিৎসার জন্য প্রস্তুতি নেওয়া ২১ বছর বয়সী মো. শোয়াইবুল ইসলাম রাকিব এখন চিকিৎসার খরচ ও ঋণের কিস্তি পরিশোধ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে আনোয়ারা উপজেলার ১০ নম্বর হাইলধর ইউনিয়নের খাসখামা গ্রামের এক নম্বর ওয়ার্ডের আলী মিয়ার বাড়িতে এ অগ্নিকাণ্ড ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, রাত ১টা ২০ মিনিটের দিকে আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে স্থানীয় বাসিন্দারা বালতি ও বিভিন্ন সরঞ্জাম দিয়ে আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন। পরে আগুনের তীব্রতা বাড়লে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ ফোন করে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। খবর পেয়ে একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে।ফায়ার সার্ভিসের প্রায় ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নির্বাপণ করা হয়।
অগ্নিকাণ্ডে জামাল উদ্দীন আহমদের ঘরের প্রায় ৫০ আড়ি ধান, ৭০ হাজার টাকা ও আসবাবপত্র পুড়ে গেছে। তাঁর দাবি, এতে প্রায় চার লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। নজরুল ইসলাম ওরফে সোনা মিয়ার পরিবারের প্রায় এক লাখ টাকার আসবাবপত্র এবং আবুল মনসুরের ঘরের প্রায় চার লাখ টাকার মালামাল পুড়ে গেছে বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন।
ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দাবি, সব মিলিয়ে প্রায় নয় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। তবে ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক হিসাবে ক্ষতির পরিমাণ প্রায় আড়াই লাখ টাকা।
আগুনে ক্ষতিগ্রস্ত নজরুল ইসলাম ওরফে সোনা মিয়ার ছেলে রাকিব জানান, দুইটি বেসরকারি সংস্থা থেকে ঋণ নেওয়ার পর কিস্তি পরিশোধের জন্য প্রায় ৭০ হাজার টাকা জমিয়েছিলেন তিনি। টাকাগুলো বিছানার বালিশের নিচে রাখা ছিল। সকালে পায়ের চিকিৎসার জন্য বাড়ি থেকে বের হওয়ার কথা থাকলেও আগুনে তাঁর ঘরের সবকিছু পুড়ে যায়।
রাকিব বলেন, আগুনে টাকা, আসবাবপত্রসহ সবকিছু শেষ হয়ে গেছে। এখন কীভাবে চিকিৎসা করাবেন এবং ঋণের কিস্তি পরিশোধ করবেন, তা নিয়ে দুশ্চিন্তায় রয়েছেন তিনি। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেছেন তিনি।
এদিকে রাকিবের ভাই আকিবের অভিযোগ, অগ্নিকাণ্ডের আগে তাঁদের বাড়িতে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন পাশের কয়েকজন। এ ঘটনায় রাতেই ৯৯৯ নম্বরে ফোন করলে আনোয়ারা থানার সহকারী উপপরিদর্শক সহিদুল ইসলাম পুলিশের একটি দল নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। পরে দুই পক্ষকে শান্ত করে পরদিন থানায় গিয়ে বিষয়টি সমাধানের পরামর্শ দেওয়া হয়।
আকিবের দাবি, রাত দেড়টার দিকে তাঁদের চাচাতো ভাই আবুল মনসুরের ঘরের পূর্ব পাশ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন ছড়িয়ে তাঁদের ঘরও পুড়ে যায়। এ ঘটনায় প্রায় নয় লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন তাঁরা। পরিবারের সদস্যরা শহর থেকে ফিরলে থানায় লিখিত অভিযোগ করবেন বলে জানিয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে আগুনে পাশের বাসিন্দা আবুল কালামের ঘরের একাংশ ও বিদ্যুতের মিটারও পুড়ে গেছে। তবে আগুনের সূত্রপাত বা কারও সংশ্লিষ্টতা সম্পর্কে তিনি নিশ্চিত নন।
আনোয়ারা ফায়ার স্টেশনের লিডার মো. মুজিবুর রহমান জানান, খবর পাওয়ার পর দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আগুন নির্বাপণের কাজ শুরু করেন তাঁরা। প্রায় ৪৫ মিনিটের চেষ্টায় আগুন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়। প্রাথমিকভাবে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এতে আনুমানিক আড়াই লাখ টাকার ক্ষতি হলেও প্রায় ১০ লাখ টাকার মালামাল উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে।
আনোয়ারা থানার সহকারী উপপরিদর্শক সহিদুল ইসলাম জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের লিখিত অভিযোগ নিয়ে থানায় আসতে বলা হয়েছে। তবে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. জুনায়েত চৌধুরী বলেন, ঘটনাটি তাঁর জানা নেই। খোঁজ নিয়ে বিস্তারিত জানাবেন।
অগ্নিকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং ইটপাটকেল নিক্ষেপের অভিযোগের সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত সহায়তা জরুরি।






