ক্রোক আদেশ বাতিল করলেন হাইকোর্ট

দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৮ আদেশের ৫ ও ৬ বিধি অনুসরণ না করায় অর্থ ঋণ আদালতের আদেশ বাতিল; নতুন করে আবেদনের সুযোগ থাকছে ব্যাংকের।
টুইট ডেস্ক: দেওয়ানি কার্যবিধির বাধ্যতামূলক দুটি বিধি অনুসরণ না করে রায় ঘোষণার আগেই কোনো বিবাদীর সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেওয়া বেআইনি ও অবৈধ বলে ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এ ধরনের আদেশ দেওয়ার আগে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ এবং বিবাদীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন আদালত।
রোববার (১ নভেম্বর) প্রকাশিত এক রায়ে বিচারপতি মো. মজিবুর রহমান মিয়া ও বিচারপতি রেজাউল করিমের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি বেঞ্চ এ সিদ্ধান্ত দেন। অর্থ ঋণ আদালতে একটি ব্যাংকের করা সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ চ্যালেঞ্জ করে দায়ের করা রিটের চূড়ান্ত শুনানি শেষে এ রায় দেওয়া হয়।
মামলার বিবরণ অনুযায়ী, একটি ব্যাংক তৌহিদুল ইসলাম চৌধুরীসহ আটজনের বিরুদ্ধে ১৪৮ কোটি ১৯ লাখ ২ হাজার ৮১০ টাকা আদায়ের দাবিতে ঢাকার অর্থ ঋণ আদালতে মামলা করে। মামলায় বিবাদীপক্ষ লিখিত জবাব দেওয়ার পর ব্যাংক দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৮ আদেশের ৫ বিধি ও ১৫১ ধারায় রায় ঘোষণার আগে বিবাদীদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি ক্রোকের আবেদন করে।
গত বছরের ১৮ নভেম্বর অর্থ ঋণ আদালত কোনো যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ কিংবা কারণ দর্শানোর নোটিশ জারি না করেই আবেদনটি মঞ্জুর করেন। পরে ওই আদেশের বিরুদ্ধে বিবাদীদের একজন হাইকোর্টে রিট দায়ের করেন। প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত রুল জারির পাশাপাশি ক্রোক আদেশের কার্যকারিতা স্থগিত করেন।
রিটের পক্ষে আইনজীবী তাইসির হক যুক্তি দেন, সম্পত্তি হস্তান্তরের সুনির্দিষ্ট আশঙ্কার বিষয়টি হলফনামা বা প্রমাণের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠা করতে ব্যাংক ব্যর্থ হয়েছে। পাশাপাশি সম্পত্তি ক্রোকের আগে বিবাদীকে জামানত জমা দেওয়া অথবা কারণ দর্শানোর সুযোগ দেওয়ার বাধ্যতামূলক বিধানও অর্থ ঋণ আদালত অনুসরণ করেননি।
অন্যদিকে ব্যাংকের পক্ষে আইনজীবী মারগুব কবি ও আইনজীবী তাইসির মাহমুদ দাবি করেন, ঋণখেলাপি বিবাদীরা নিজেদের মধ্যে যোগসাজশ করে সম্পত্তি হস্তান্তরের চেষ্টা করছিলেন। এ কারণে অর্থ ঋণ আদালতের ক্রোক আদেশ আইনসম্মত ছিল বলে তারা যুক্তি দেন।
উভয় পক্ষের বক্তব্য ও মামলার নথি পর্যালোচনা করে হাইকোর্ট জানান, দেওয়ানি কার্যবিধির ৩৮ আদেশের ৫ ও ৬ বিধি অনুসারে সম্পত্তি ক্রোকের আগে নির্ধারিত আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা বাধ্যতামূলক। আদালতের সন্তুষ্টি অর্জন এবং বিবাদীকে আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে শুধু অস্পষ্ট যুক্তির ভিত্তিতে এ ধরনের আদেশ দেওয়া যায় না।
আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, প্রথমে বিবাদীকে সম্পত্তির মূল্য বা সমপরিমাণ জামানত জমা দিতে কিংবা কেন জামানত দেওয়া হবে না, সে বিষয়ে কারণ দর্শাতে নির্দেশ দিতে হবে। এসব নির্দেশ পালনে ব্যর্থ হলেই কেবল সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
হাইকোর্ট আরও পর্যবেক্ষণ করেন, সংশ্লিষ্ট অর্থ ঋণ আদালতের বিচারক আইনের বিধান ও ব্যাংকের আবেদন যথাযথভাবে পর্যালোচনা না করেই অযৌক্তিকভাবে ক্রোকের আদেশ দিয়েছিলেন। ফলে ওই আদেশ আইনের দৃষ্টিতে গ্রহণযোগ্য নয়।
এরপর হাইকোর্ট রিটের রুল চূড়ান্তভাবে যথাযথ ঘোষণা করে অর্থ ঋণ আদালতের দেওয়া সম্পত্তি ক্রোকের আদেশের বৈধতা বাতিল করেন। তবে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ব্যাংক চাইলে নতুন করে আবেদন করতে পারবে বলেও রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।






