আগামী গ্রীষ্মে সৌরবিদ্যুতে কমবে লোডশেডিং: জ্বালানিমন্ত্রী

জ্বালানির উচ্চমূল্য মোকাবিলায় বিকল্প উৎসে গুরুত্ব, ৩ নভেম্বর সৌরবিদ্যুৎ প্রদর্শনী উদ্বোধন
টুইট ডেস্ক: আগামী গ্রীষ্মে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়িয়ে দেশে বিদ্যুতের লোডশেডিং কিছুটা কমানো সম্ভব হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যয় বাড়ছে। এ পরিস্থিতিতে সৌরবিদ্যুতের সম্প্রসারণের বিকল্প নেই।
রোববার (১ নভেম্বর) রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে ‘বাংলাদেশ সৌরবিদ্যুৎ প্রদর্শনী-২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
জ্বালানিমন্ত্রী জানান, জ্বালানির দাম বেড়ে ৩২ ডলারে পৌঁছেছে। আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর চাপ কমাতে সরকার সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারণে বিভিন্ন পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে।
তিনি বলেন, গত আট মাস ধরে সরকার সৌরবিদ্যুৎ নিয়ে কাজ করছে। সাধারণ মানুষকে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারে উৎসাহিত করতে প্রথমবারের মতো সরকারি উদ্যোগে সৌরবিদ্যুৎ প্রদর্শনীর আয়োজন করা হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজ বাসভবনে সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন উল্লেখ করে মন্ত্রী দাবি করেন, প্রধানমন্ত্রী এখন জাতীয় বিদ্যুৎ সঞ্চালনব্যবস্থার ওপর নির্ভর না করে নিজস্ব সৌরবিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন।
আগের সরকারের জ্বালানি খাতের ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করা হলেও সেগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হয়নি। তাঁর অভিযোগ, নতুন গ্যাসকূপ খননেও যথাযথ উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
তিনি জানান, বর্তমানে বিভিন্ন উৎস থেকে জ্বালানি আমদানির পাশাপাশি তুলনামূলক সাশ্রয়ী মূল্যে সরবরাহ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিকল্প উৎসের ব্যবহার বাড়ানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, ২০৩০ সালের মধ্যে জ্বালানির চাহিদা ও সরবরাহের ব্যবধান কমিয়ে আনা সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। আগামী গ্রীষ্মে যাতে চলতি বছরের মতো বিদ্যুৎ সংকট দেখা না দেয়, সে লক্ষ্যে প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে।
আগামী ৩ ও ৪ নভেম্বর রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে দুই দিনব্যাপী সৌরবিদ্যুৎ প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হবে। ৩ নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান প্রদর্শনীর উদ্বোধন করবেন।
সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা, সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার সম্প্রসারিত হলে প্রচলিত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থার ওপর চাপও কিছুটা হ্রাস পাবে।






