দক্ষ যুবসমাজই দেশের সবচেয়ে বড় সম্পদ: রাষ্ট্রপতি

শিক্ষা, কর্মসংস্থান ও প্রযুক্তিগত দক্ষতা বৃদ্ধিতে সম্মিলিত উদ্যোগের আহ্বান
টুইট ডেস্ক : সংগঠিত, দক্ষ ও অঙ্গীকারবদ্ধ যুবসমাজকে দেশের সবচেয়ে মূল্যবান সম্পদ হিসেবে অভিহিত করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, তরুণদের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে মানসম্মত শিক্ষা, আধুনিক প্রযুক্তিগত দক্ষতা ও টেকসই কর্মসংস্থানের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে।
রোববার (১ নভেম্বর) জাতীয় যুব দিবস-২০২৬ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে রাষ্ট্রপতি এসব কথা বলেন। এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ‘দক্ষ যুব গড়বে দেশ, সবার জন্য বাংলাদেশ’।
রাষ্ট্রপতি বলেন, যুবসমাজ একটি জাতির প্রাণশক্তি এবং উন্নয়নের অন্যতম প্রধান নির্ধারক। ভাষা আন্দোলন, মহান মুক্তিযুদ্ধ, নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থান এবং ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানসহ দেশের গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক অর্জনে তরুণরা অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছেন।
তিনি বলেন, দেশের জনসংখ্যার একটি বড় অংশ তরুণ। এই জনমিতিক সুবিধাকে যথাযথভাবে কাজে লাগানো গেলে স্বনির্ভর, উন্নত ও আধুনিক বাংলাদেশ গড়ার পথ আরও সুগম হবে। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও যুবসমাজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, তরুণদের দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করতে কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা, উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, প্রযুক্তিগত প্রশিক্ষণ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থানের সুযোগ সম্প্রসারণ জরুরি।
যুব উন্নয়নে অতীতের উদ্যোগ স্মরণ করে তিনি বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান যুবসমাজকে উৎপাদনশীল জনশক্তিতে রূপান্তরের ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তী সময়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া সেই কার্যক্রম আরও সম্প্রসারিত করেন।
বর্তমান সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি জানান, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় এবং যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের মাধ্যমে কৃষি, হস্তশিল্প, কারিগরি শিক্ষা, স্বাধীন পেশাভিত্তিক অনলাইন কর্মসংস্থান ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, সরকারি ও বেসরকারি খাতের সমন্বিত উদ্যোগ তরুণদের দক্ষ উদ্যোক্তা ও স্বনির্ভর নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সহায়ক হবে।
সামাজিক উন্নয়নে যুবসমাজের দায়িত্বের ওপর গুরুত্বারোপ করে রাষ্ট্রপতি মাদকাসক্তি প্রতিরোধ, পরিবেশ সংরক্ষণ, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধ এবং সামাজিক অবক্ষয় রোধে তরুণদের সক্রিয় অংশগ্রহণের আহ্বান জানান।
একটি ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে সরকার, বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, সামাজিক সংগঠন, বিত্তবান ব্যক্তি ও পরিবারগুলোকে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে রাষ্ট্রপতি বলেন, যুবসমাজের মর্যাদাপূর্ণ কর্মসংস্থান ও উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা সবার অঙ্গীকার হওয়া উচিত।
বাণীর শেষাংশে তিনি জাতীয় যুব দিবস উপলক্ষে আয়োজিত সব কর্মসূচির সফলতা কামনা করেন।






