বাবাকে দেখে তবলার প্রেম, আড়াই বছরেই রেকর্ড গড়ল স্বরশ্রী

টুইট ডেস্ক : যে বয়সে অধিকাংশ শিশু ঠিকমতো বাক্য গুছিয়ে কথা বলতেই শেখে, সেই বয়সেই তবলার ছন্দে সবাইকে তাক লাগিয়ে দিয়েছে ভারতের কর্ণাটকের ছোট্ট স্বরশ্রী হেগড়ে। মাত্র ২ বছর ১০ মাস বয়সে তবলার ১২টি তাল মুখে আবৃত্তি করার পাশাপাশি বাজিয়েও ভারতের রেকর্ড বইয়ে নাম লিখিয়েছে। এত অল্প বয়সে তার এই অসাধারণ অর্জন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সাড়া ফেলেছে। সম্প্রতি এক্সে (সাবেক টুইটার) শিশুটির তবলা পরিবেশনার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। এরপর থেকেই তাকে ঘিরে প্রশংসা ও শুভকামনা জানাচ্ছেন বিভিন্ন বয়সী মানুষ।

ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্বরশ্রীর বাড়ি ভারতের কর্ণাটক রাজ্যের উত্তর কন্নড় জেলার হননাভর এলাকায়। ইন্ডিয়া বুক অব রেকর্ডসে স্থান পাওয়া স্বরশ্রীর কৃতিত্ব হলো, সে তবলার ১২টি তাল মুখে আবৃত্তি করতে পারে এবং একই সঙ্গে বাদ্যযন্ত্রটিতে সেগুলো বাজাতেও পারে। সাধারণত এসব তাল আয়ত্ত করতে দীর্ঘদিনের অনুশীলন, ধৈর্য ও মনোযোগ প্রয়োজন হয়। সেখানে তিন বছর পূর্ণ হওয়ার আগেই এমন দক্ষতা দেখিয়ে বিস্ময় তৈরি করেছে শিশুটি।

ভারতীয় শাস্ত্রীয় সংগীতে তাল একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সংগীতের ছন্দ ও গতির কাঠামো তৈরি হয় এই তালের মাধ্যমে। প্রতিটি তালের নির্দিষ্ট মাত্রা, বিভাজন এবং পুনরাবৃত্তির ধরন রয়েছে। একটি চক্রের শুরুতে ফিরে আসার বিশেষ মুহূর্তকে বলা হয় ‘সম’। একটি তাল আয়ত্ত করতেই প্রয়োজন হয় ছন্দবোধ, স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগের। সেখানে ১২টি তাল মুখে বলা এবং তবলায় বাজানো নিঃসন্দেহে কঠিন কাজ। বিশেষ করে যে শিশুর বয়স এখনো তিন বছর হয়নি, তার জন্য এই অর্জন ব্যতিক্রমী।

স্বরশ্রীর পরিবেশনার ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নানা মন্তব্য করছেন নেটিজেনরা। এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ‘উত্তর কন্নড়ের (কারওয়ার) জন্য গর্বের মুহূর্ত। মাত্র দুই বছর বয়সী একটি মেয়ে অবিশ্বাস্য প্রতিভার পরিচয় দিয়েছে।’ আরেকজন মন্তব্য করেছেন, ‘মা সরস্বতী ছোট্ট দেবদূতটিকে আশীর্বাদ করেছেন!’ অন্য একজন শিশুটির নামের সঙ্গে তার প্রতিভার মিল খুঁজে লিখেছেন, ‘প্রতিভাবান শিশু। অবাক হচ্ছি, তার বাবা-মা কীভাবে আগেই বুঝতে পেরেছিলেন যে এই নামটি তার জন্য এতটা মানানসই হবে!’

তার বাবা গুরুরাজ হেগড়ে আদুকালা একজন তবলা বাদক। তিনি ৫০ জনেরও বেশি শিক্ষার্থীকে তবলা শেখান। অন্যদিকে, স্বরশ্রীর মা শ্রিলতা হেগড়ে ইংরেজি সাহিত্যের অধ্যাপক হওয়ার পাশাপাশি হিন্দুস্তানি শাস্ত্রীয় সংগীতের শিল্পী। স্বামী-স্ত্রী মিলে হননাভরে একটি সংগীত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করেন। সেখানেই বাবার কাছ থেকে শিক্ষার্থীদের তবলা শেখার দৃশ্য দেখে বাদ্যযন্ত্রটির প্রতি আকৃষ্ট হয় স্বরশ্রী। ধীরে ধীরে তবলার প্রতি তার আগ্রহ বাড়তে থাকে। মেয়ের এই আগ্রহ বুঝতে পেরে বাবা-মা তার জন্য বিশেষভাবে দুটি ছোট আকারের তবলা তৈরি করান।

এতে নিজের মতো করে তবলা বাজানোর সুযোগ পায় ছোট্ট স্বরশ্রী। সেই ছোট্ট আগ্রহ থেকেই শুরু হয় তার সংগীতচর্চা। সময়ের সঙ্গে তবলার প্রতি ভালোবাসা ও অনুশীলনে তৈরি হয় দক্ষতা। মাত্র ২ বছর ১০ মাস বয়সে ১২টি তাল বাজানোর পাশাপাশি সেগুলো মুখে আবৃত্তি করে রেকর্ড গড়েছে সে। শৈশবের কৌতূহল থেকে শুরু হওয়া স্বরশ্রীর এই পথচলা এখন বিশেষ অর্জনে পরিণত হয়েছে। ছোট্ট বয়সেই তার এমন সাফল্যে আনন্দিত পরিবার ও স্থানীয়রা।