নেতানিয়াহুর কি পতন ঘটছে?

নির্বাচনে জনসমর্থন কমার ইঙ্গিত, বিরোধীদের সঙ্গে আসনসংখ্যার লড়াইয়ে অনিশ্চয়তা

টুইট ডেস্ক: ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। পার্লামেন্ট নির্বাচনের বুথফেরত জরিপে তাঁর নেতৃত্বাধীন জোটের প্রত্যাশিত ফল নিয়ে সংশয় দেখা দিয়েছে। তবে রাজনৈতিক সংকটের মধ্যেও জোট গঠনের মাধ্যমে ক্ষমতায় থাকার সম্ভাবনা রয়েছে তাঁর।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) অনুষ্ঠিত নির্বাচনের পর প্রকাশিত বিভিন্ন জরিপে নেতানিয়াহুর শিবির ও বিরোধীদের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া গেছে। ১২০ আসনের ইসরায়েলি পার্লামেন্টে সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন অন্তত ৬১টি আসন। ফলে কোনো পক্ষই এককভাবে এই সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে না পারলে ছোট দলগুলোর সমর্থন গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

নেতানিয়াহুর জনপ্রিয়তা কমার পেছনে গাজা ও লেবাননে যুদ্ধ, ইরানের সঙ্গে সংঘাত, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা প্রতিরোধে ব্যর্থতা এবং সরকারের বিভিন্ন নীতি নিয়ে অসন্তোষকে গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিচারব্যবস্থা সংস্কারের উদ্যোগ এবং অতি-রক্ষণশীল ইহুদিদের সামরিক সেবার বাইরে রাখার বিষয়টিও তাঁর সরকারের সমালোচনার কারণ হয়েছে।

ইসরায়েল ডেমোক্রেসি ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ গবেষক গিডিওন রাহাতের মতে, নেতানিয়াহুর সমর্থনের ভিত্তি হিসেবে অতি-রক্ষণশীল ইহুদি গোষ্ঠী, কট্টর ডানপন্থি এবং তাঁর ব্যক্তিগত সমর্থকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন। পরিচয়ভিত্তিক রাজনীতির কারণে সরকারের সাফল্য-ব্যর্থতার বাইরেও এসব গোষ্ঠীর সমর্থন নির্বাচনে প্রভাব ফেলতে পারে।

অন্যদিকে, বিরোধী শিবিরও জনঅসন্তোষকে পুরোপুরি নিজেদের পক্ষে কাজে লাগাতে পারেনি বলে মনে করছেন বিশ্লেষকদের একাংশ। সাবেক সেনাপ্রধান গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন শিবির নেতানিয়াহুর জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠলেও সরকার গঠনের চূড়ান্ত সমীকরণ এখনো অনিশ্চিত।

এর আগে ২০২১ সালে নাফতালি বেনেট ও ইয়ার লাপিদের নেতৃত্বে গঠিত জোট নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরিয়ে দিয়েছিল। তবে পরবর্তী সময়ে তিনি আবারও ক্ষমতায় ফেরেন। ফলে এবারের নির্বাচনেও বিরোধীদের সম্ভাব্য সাফল্য মানেই তাঁর রাজনৈতিক জীবনের অবসান—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

নেতানিয়াহুর সামনে দুর্নীতির বিচার, যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে সমালোচনা এবং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে চাপের মতো বিষয়ও রয়েছে। অন্যদিকে, বিরোধীরা সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ও রাজনৈতিক সমর্থন নিশ্চিত করতে না পারলে নতুন জোট গঠন কিংবা পুনর্নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।

সব মিলিয়ে, এবারের নির্বাচন নেতানিয়াহুর দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হয়ে উঠেছে। তবে চূড়ান্ত ফল, জোটের সমীকরণ এবং ছোট দলগুলোর অবস্থান স্পষ্ট না হওয়া পর্যন্ত তাঁর ক্ষমতা হারানো বা টিকে থাকার বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাচ্ছে না।