বান্দরবানে চার ‘ভূতের’ নাচে মাতল মঙ্গল রথযাত্রা

বাহারি পোশাকে বিশাল পুতুলের ভেতরে ছিলেন চার শিল্পী, তাঁদের নাচ ঘিরে দর্শনার্থীদের উচ্ছ্বাস

বান্দরবান প্রতিনিধি : বান্দরবানে মাহা ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে (প্রবারণা পূর্ণিমা) ও ১৩৮৮ ম্রাইমা সাক্রয় উপলক্ষে আয়োজিত মঙ্গল রথযাত্রায় দর্শনার্থীদের বাড়তি আকর্ষণ ছিল চারটি বিশাল পুতুলের নাচ। সবুজ, লাল ও কমলা পোশাকে সাজানো দুটি পুরুষ ও দুটি নারী অবয়বের পুতুল শহরের সড়কে নেচে বেড়ায়। বাইরে থেকে ভূতের মতো দেখতে এসব পুতুলের ভেতরে ছিলেন চারজন শিল্পী।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) রাতে বান্দরবানের পুরাতন রাজবাড়ী প্রাঙ্গণ থেকে মঙ্গল রথযাত্রা শুরু হয়। শোভাযাত্রাটি শহরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে উজানীপাড়া খেয়াঘাটে পৌঁছায়। পরে সাঙ্গু নদীতে মঙ্গল রথ উৎসর্গের মধ্য দিয়ে শেষ হয় আয়োজন।

শোভাযাত্রায় পুতুলগুলোর অঙ্গভঙ্গি ও নাচ দেখতে সড়কের দুই পাশে ভিড় করেন নানা বয়সী মানুষ। অনেকে মুঠোফোনে দৃশ্য ধারণ করেন। শিশু-কিশোরদের মধ্যেও এ নিয়ে কৌতূহল ও উচ্ছ্বাস দেখা যায়।

আকর্ষণীয় এসব পুতুলের ভেতরে থেকে নাচ পরিবেশন করা শিল্পীদের দীর্ঘ সময় ভারী পোশাকের মধ্যে থাকতে হয়। গরম ও সীমিত দৃষ্টিসুবিধার কারণে তাঁদের বেশ কষ্ট করতে হয়। তবে দর্শনার্থীদের আনন্দ দিতে সেই কষ্ট উপেক্ষা করেই তাঁরা নাচ পরিবেশন করেন।

উৎসব উদযাপন পরিষদ, বান্দরবান পার্বত্য জেলার আয়োজনে অনুষ্ঠিত এ রথযাত্রায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ অংশ নেন। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের এ আয়োজন শহরজুড়ে উৎসবমুখর পরিবেশ সৃষ্টি করে।

মাহা ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উপলক্ষে সপ্তাহব্যাপী কর্মসূচির অংশ হিসেবে মঙ্গল রথযাত্রা, মঙ্গল প্রদীপ প্রজ্বালন, আকাশে ফানুস উত্তোলন ও পাড়াভিত্তিক পিঠা উৎসবসহ নানা আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের মতে, এসব আয়োজনের মধ্য দিয়ে পাহাড়ি জনপদের ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মধ্যে সম্প্রীতির বন্ধন আরও দৃঢ় হয়।