দ্রুততম ইমরান-শিরিন, প্রথম দিনেই টাইমিং বিতর্ক

পুরুষদের ১০০ মিটারে ইমরানুরের সময় ১০.৫৩ সেকেন্ড, নারীদের ইভেন্টে শিরিনের ১২.০৮ সেকেন্ড; বৈদ্যুতিক ফলাফল প্রদর্শক যন্ত্রের সময় নিয়ে প্রশ্ন

টুইট প্রতিবেদক: জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতার প্রথম দিনেই দ্রুততম মানব ও মানবী নির্বাচিত হয়েছেন ইমরানুর রহমান ও শিরিন আক্তার। তবে প্রতিযোগিতার শুরুতেই বৈদ্যুতিক ফলাফল প্রদর্শক যন্ত্রে সময়ের অসংগতি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। পুরুষদের ১০০ মিটার দৌড়ে প্রথমে যন্ত্রে এক রকম সময় দেখানো হলেও পরে তা পরিবর্তন করা হয়। নারীদের দৌড়ের সময় নিয়েও দেখা গেছে অসংগতি।

শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেলে জাতীয় স্টেডিয়ামে ১৮তম জাতীয় সামার অ্যাথলেটিক্স প্রতিযোগিতার উদ্বোধন হয়। উদ্বোধনী দিনে পুরুষদের ১০০ মিটার স্প্রিন্টে ১০.৫৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে প্রথম হন বাংলাদেশ নৌবাহিনীর ইমরানুর রহমান। একই দলের মোহাম্মদ ইসমাইল ১০.৬৭ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর তারেক রহমান ১০.৭৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় হন।

তবে ইমরানুরের দৌড় শেষ হওয়ার পর স্টেডিয়ামের বৈদ্যুতিক ফলাফল প্রদর্শক যন্ত্রে প্রথমে ১০.৭৩ সেকেন্ড সময় দেখানো হয়। কয়েক মিনিট পর সেখানে ১০.৫৩ সেকেন্ড প্রদর্শিত হয়। দ্বিতীয় সময়টির পাশেও প্রাথমিক ফলাফল হিসেবে উল্লেখ ছিল। এ নিয়ে প্রতিযোগিতার সময় নির্ধারণের নির্ভুলতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

এশিয়ান গেমসে অংশ নেওয়া ইমরানুরের কাছে তাঁর সময় সম্পর্কে জানতে চান সাংবাদিকেরা। জবাবে তিনি বলেন, নিজের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। তবে এবারের সময় এমন হয়েছে। সামনে আরও কয়েকটি ইভেন্টে ভালো করার লক্ষ্য রয়েছে তাঁর।

অন্যদিকে নারীদের ১০০ মিটার দৌড়ে ১২.০৮ সেকেন্ড সময় নিয়ে প্রথম হয়েছেন শিরিন আক্তার। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর শরীফা খাতুন ১২.২৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে দ্বিতীয় এবং বাংলাদেশ নৌবাহিনীর সুমাইয়া দেওয়ান ১২.৩৩ সেকেন্ড সময় নিয়ে তৃতীয় হয়েছেন।

১৮তমবারের মতো দ্রুততম মানবী হওয়ার কৃতিত্ব অর্জন করা শিরিনের কাছে এবারের পদকটি বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। রাষ্ট্রপতির কাছ থেকে পদক নিতে পেরে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন তিনি।

শিরিন বলেন, রাষ্ট্রপতি জাতীয় অ্যাথলেটিক্সের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে পদক দিয়েছেন, যা খেলাধুলার প্রতি তাঁর আন্তরিকতার পরিচয় বহন করে। আসন্ন দক্ষিণ এশীয় গেমসের আগে কয়েক মাস সময় রয়েছে উল্লেখ করে শিরিন আশা প্রকাশ করেন, নিয়মিত ও যথাযথ অনুশীলন করতে পারলে পদকের সম্ভাবনা রয়েছে।

খেলাধুলার প্রসারে মাঠ তৈরির আহ্বান

প্রতিযোগিতার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক।

উদ্বোধনী বক্তব্যে রাষ্ট্রপতি তৃণমূল পর্যায়ে খেলাধুলার প্রসারে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী দায়িত্ব নেওয়ার পর দেশের ক্রীড়াঙ্গনে তৃণমূল থেকে খেলাধুলা এগিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা জোরদার হয়েছে। এ ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উৎসাহ জোগাচ্ছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

প্রয়াত ক্রীড়া সংগঠক আরাফাত রহমান কোকোর স্মৃতিচারণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, ক্রিকেটের উন্নয়নে তাঁর উল্লেখযোগ্য অবদান ছিল। একই সঙ্গে তিনি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার পরিবারের ক্রীড়ানুরাগের ইতিহাস স্মরণ করেন।

অ্যাথলেটিক্সকে খেলাধুলার ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সুস্থ জাতি গঠন এবং তরুণদের মাদকাসক্তি, মুঠোফোনের প্রতি অতিরিক্ত আসক্তি ও হতাশা থেকে দূরে রাখতে খেলাধুলার বিকল্প নেই।

দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে একটি করে খেলার মাঠ তৈরির সরকারি উদ্যোগের কথা তুলে ধরে তিনি অবৈধ দখল থেকে মাঠ উদ্ধার, বিদ্যমান মাঠ সংরক্ষণ এবং নতুন মাঠ চিহ্নিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।

আন্তর্জাতিক ক্রীড়াঙ্গনে বাংলাদেশের সাফল্যের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে রাষ্ট্রপতি বলেন, অন্য দেশের সাফল্যের দিকে তাকিয়ে না থেকে নিজেদের খেলোয়াড় তৈরি করতে হবে। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে দেশের অবস্থান শক্তিশালী করতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।

নারী অ্যাথলেটদের সমান সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি দ্রুত আন্তস্কুল ক্রীড়া প্রতিযোগিতা চালুর আহ্বান জানান রাষ্ট্রপতি। বিশ্বমানের খেলোয়াড় তৈরিতে সরকারি উদ্যোগের পাশাপাশি ব্যাংক, বিমা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে দীর্ঘমেয়াদি পৃষ্ঠপোষকতা নিয়ে এগিয়ে আসার কথাও বলেন তিনি।

প্রতিযোগিতার মশাল প্রজ্বলন করেন সাবেক অ্যাথলেট মহিউদ্দিন আহমেদ মোস্তাক ও সুমিতা রানী। পরে খেলোয়াড় ও বিচারকেরা সুষ্ঠুভাবে প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের শপথ নেন।

উৎসবমুখর পরিবেশে প্রতিযোগিতা শুরু হলেও প্রথম দিনেই বৈদ্যুতিক ফলাফল প্রদর্শক যন্ত্রে সময়ের অসংগতি দেশের অ্যাথলেটিক্সে নির্ভুল সময় নির্ধারণ ও ফলাফল প্রকাশের ব্যবস্থাপনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে।