ফ্রান্সের দুই শহরে বিক্ষোভ নিষিদ্ধ, প্যারিসে বাড়ল কারফিউ

সহিংসতা ও লুটপাটের আশঙ্কায় কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে প্রশাসন; বন্ধ থাকবে গুরুত্বপূর্ণ জাদুঘর, কয়েকটি শহরে জারি হয়েছে বাড়তি বিধিনিষেধ।
টুইট ডেস্ক: ফ্রান্সে সাম্প্রতিক বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে সহিংসতা ও লুটপাটের ঘটনা ছড়িয়ে পড়ার পর নিরাপত্তাব্যবস্থা আরও জোরদার করেছে দেশটির সরকার। রাজধানী প্যারিসের নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় রাত্রিকালীন কারফিউয়ের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। একই সঙ্গে মার্সেই ও লিওঁ শহরে শনিবার ও রোববার সব ধরনের সভা-সমাবেশ এবং বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করেছে স্থানীয় প্রশাসন।
প্যারিসে আগামী সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল পর্যন্ত প্রতিদিন রাত ১১টা থেকে ভোর ৬টা পর্যন্ত কারফিউ কার্যকর থাকবে। গত সপ্তাহান্তে দেশটির বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত সহিংসতার পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এ সিদ্ধান্ত নিয়েছে পুলিশ কর্তৃপক্ষ।
প্যারিসের প্লাস দ্য লা রিপুবলিক ও লে আল শপিং এলাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ স্থানে কারফিউয়ের মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনিয়েজ ও প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়াঁ লোকর্নুর নির্দেশে এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, নতুন করে বিশৃঙ্খলা ও লুটপাটের আশঙ্কায় শনিবার প্যারিসের বিশ্বখ্যাত ল্যুভ, ওর্সে ও পিকাসো জাদুঘর বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অন্যদিকে, সহিংসতা এড়াতে উপকূলীয় শহর মার্সেইতে শনিবার গণপরিবহন চলাচল বন্ধ রাখা হবে। গত সপ্তাহের সহিংসতায় শহরটির পাঁচ শতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল।
রুয়াঁ অঞ্চলেও নিরাপত্তাব্যবস্থা কঠোর করা হয়েছে। শনিবার রাত ১১টা থেকে রোববার ভোর ৫টা পর্যন্ত জারি থাকা কারফিউ, যা আগে শুধু অপ্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রযোজ্য ছিল, তা এখন সব নাগরিকের ক্ষেত্রে কার্যকর হবে। এ ছাড়া নিস, তুলোঁ, রুয়াঁ শহরের কেন্দ্রস্থল এবং গ্রেনোবলেও বিভিন্ন ধরনের প্রশাসনিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ জানিয়েছেন, যেসব এলাকায় পুরোপুরি বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করা হয়নি, সেখানে শনিবার কেবল অনুমোদিত শ্রমিক সংগঠনগুলোকে বিক্ষোভের সুযোগ দেওয়া হবে। অন্যান্য বিক্ষোভ নিষিদ্ধ করার বিষয়টি বিবেচনা করা হবে বলেও জানান তিনি।
ম্যাক্রোঁর ভাষ্য, সাধারণভাবে বিক্ষোভ না করাই কাম্য। তবে শ্রমিক সংগঠনগুলো বিক্ষোভ চালিয়ে যেতে চাইলে তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা করবে কর্তৃপক্ষ।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, বামপন্থি কট্টর গোষ্ঠীগুলো প্রজাতন্ত্রকে ধ্বংস করার উদ্দেশ্যে রাজনৈতিক ও রাষ্ট্রদ্রোহমূলক কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। সরকার দ্রুত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চায় বলেও জানান ফরাসি প্রেসিডেন্ট।
গত সপ্তাহে জীবনযাত্রার ক্রমবর্ধমান ব্যয় এবং শিক্ষাব্যবস্থার অবনতির প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ হয়। তবে পরবর্তী সময়ে দাঙ্গা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় বিক্ষোভের মূল দাবিগুলো আড়ালে চলে যায়। সহিংসতায় বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও ঐতিহাসিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতি সামাল দিতে চাপে রয়েছে দেশটির সরকার।






