সাড়ে ছয় বছরে সড়কে প্রাণ গেছে প্রায় ৮ হাজার শিশুর

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার পথে সবচেয়ে বেশি শিশু নিহত, ১৩ বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ১ লাখ ২৫ হাজার ছাড়িয়েছে
টুইট ডেস্ক : দেশে সড়ক দুর্ঘটনায় শিশুদের প্রাণহানি উদ্বেগজনক পর্যায়ে রয়েছে। ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সাড়ে ছয় বছরে সড়ক দুর্ঘটনায় ৭ হাজার ৯৬৩ শিশু নিহত হয়েছে। একই সময়ে সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্ঘটনা কমাতে সরকারের উদ্যোগের কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে সড়ক নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলো।
জাতীয় নিরাপদ সড়ক দিবস উপলক্ষে বুধবার রোড সেফটি ফাউন্ডেশন ও বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির পৃথক প্রতিবেদন ও বার্তায় এসব তথ্য উঠে এসেছে। দুর্ঘটনা কমাতে শিশুবান্ধব সড়ক, ট্রাফিক আইন কার্যকরভাবে প্রয়োগ এবং পরিবহন খাতের প্রচলিত কার্যক্রম পর্যালোচনার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে সংগঠন দুটি।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের তথ্য অনুযায়ী, নিহত শিশুদের মধ্যে মোটরসাইকেলের চালক ও আরোহী ছিল ২ হাজার ৯৫৮ জন। পথচারী হিসেবে প্রাণ হারিয়েছে ২ হাজার ৮১২ শিশু এবং বিভিন্ন যানবাহনের যাত্রী হিসেবে নিহত হয়েছে ২ হাজার ১৯৩ জন।
বয়সভিত্তিক হিসাবে ১৩ থেকে ১৭ বছর বয়সী ৩ হাজার ৫৪৭ শিশু নিহত হয়েছে। এ ছাড়া ৬ থেকে ১২ বছর বয়সী ২ হাজার ৮৮৪ এবং শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী ১ হাজার ৫৩২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সবচেয়ে বেশি ২ হাজার ৫১৩ শিশু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া-আসার পথে দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে। বসতবাড়ির আশপাশের সড়কে খেলতে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছে ৯৬২ শিশু।
সড়কের ধরন অনুযায়ী, গ্রামীণ সড়কে ২ হাজার ৭১৩, আঞ্চলিক সড়কে ২ হাজার ৮২, মহাসড়কে ১ হাজার ৯৭৪ এবং শহরের সড়কে ১ হাজার ১৯৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
পথচারী শিশুদের মৃত্যুর কারণ বিশ্লেষণে দেখা যায়, তিন চাকার যানবাহনের ধাক্কায় ১ হাজার ২৭১ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান ও পিকআপের মতো ভারী যানবাহনের চাপায় বা ধাক্কায় নিহত হয়েছে ১ হাজার ১২৬ শিশু। এ ছাড়া ব্যক্তিগত গাড়ি, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপের ধাক্কায় ৩১৭ এবং মোটরসাইকেলের ধাক্কায় ৯৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে।
বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে ২০২৬ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত দেশে ৭২ হাজার ৭৩৬টি সড়ক দুর্ঘটনায় ১ লাখ ২৫ হাজার ৪০৫ জন নিহত এবং ১ লাখ ৭৬ হাজার ২৪৯ জন আহত হয়েছেন। গণমাধ্যমে প্রকাশিত দুর্ঘটনার তথ্য বিশ্লেষণ করে এ পরিসংখ্যান তৈরি করেছে সংগঠনটি। তাদের দাবি, হাসপাতালগুলোর তথ্য বিবেচনায় নিলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা আরও কয়েক গুণ বেশি হতে পারে।
সংগঠনটির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা বলা হলেও দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমছে না। কেন এসব উদ্যোগের পরও পরিস্থিতির উন্নতি হচ্ছে না, তা পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, যেসব দেশ সড়ক দুর্ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে, তাদের অভিজ্ঞতা কাজে লাগাতে হবে। সরকারের চলমান কার্যক্রমের নিরীক্ষা এবং গতানুগতিক উদ্যোগের পরিবর্তে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ ও ট্রাফিক বিভাগের কার্যক্রমে অভিজ্ঞতার ঘাটতি রয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এ ঘাটতি পূরণে দেশি-বিদেশি বিশেষজ্ঞদের যুক্ত করার পরামর্শ দেন মোজাম্মেল হক চৌধুরী।






