দুর্গোৎসবে যোগ দিতে চট্টগ্রাম যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী

জেএম সেন হলে মন্দির পরিদর্শন, শুভেচ্ছা বিনিময় ও আর্থিক সহায়তা বিতরণের কথা রয়েছে; উৎসব ঘিরে জোরদার নিরাপত্তাব্যবস্থা।
টুইট প্রতিবেদক: শারদীয় দুর্গোৎসবের আনন্দ ভাগাভাগি করতে চট্টগ্রাম সফরে যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর আগমন ঘিরে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সামনে চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য তুলে ধরতে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে জেলা প্রশাসন।
চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা সোমবার (১৯ অক্টোবর) ঐতিহ্যবাহী জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন ও প্রস্তুতি তদারককালে এসব তথ্য জানান। এ সময় চট্টগ্রামের পুলিশ সুপার মাসুদ আলম উপস্থিত ছিলেন।
জেলা প্রশাসক বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি চট্টগ্রামের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য, যা এ অঞ্চলের মানুষের গর্ব ও শক্তি। প্রধানমন্ত্রীর সফরের মধ্য দিয়ে সম্প্রীতির এই চিত্র সবার সামনে তুলে ধরতে চায় প্রশাসন।
জেএম সেন হলে প্রধানমন্ত্রীর কর্মসূচি
জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় চট্টগ্রামের শাহ আমানত আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছাবেন। সেখান থেকে সরাসরি জেএম সেন হলের পূজামণ্ডপে যাবেন তিনি।
সেখানে মন্দির পরিদর্শন, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করার কথা রয়েছে। এ ছাড়া আর্থিক সহায়তার চেক বিতরণ ও বক্তব্য দেওয়ার কর্মসূচিও রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, র্যাব, বর্ডার গার্ড বাংলাদেশসহ সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করছে। পূজামণ্ডপের সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি নৃত্য পরিবেশনা ও গীতাপাঠসহ বিভিন্ন আয়োজনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তায় সাড়ে ১২ হাজার আনসার, পাঁচ হাজারের বেশি পুলিশ
দুর্গাপূজা নির্বিঘ্ন ও নিরাপদ রাখতে চট্টগ্রামজুড়ে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। জেলা প্রশাসকের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রায় সাড়ে ১২ হাজার আনসার সদস্য এবং পাঁচ হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য দায়িত্ব পালন করছেন। পাশাপাশি র্যাবসহ অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরাও নিয়োজিত রয়েছেন।
জেলার প্রতিটি পূজামণ্ডপ নজরদারিতে রাখতে সিসি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে। স্বেচ্ছাসেবকদের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী দায়িত্ব পালনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নিয়মিত পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করছেন।
প্রতিমা বিসর্জনের স্থানগুলোতেও আলোকসজ্জা, সিসি ক্যামেরা স্থাপন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনসহ প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রশাসক জানান, সনাতন ধর্মাবলম্বীরা যাতে নির্ভয়ে ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করতে পারেন, সে জন্য প্রশাসন সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে।
বেড়েছে সরকারি সহায়তা, নতুন মণ্ডপ প্রায় ৪০০
এবার দুর্গাপূজা উপলক্ষে সরকারি সহায়তা বাড়ানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন জেলা প্রশাসক। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, আগের বছরের তুলনায় চাল ও আর্থিক সহায়তার পরিমাণ বাড়িয়েছে সরকার। পাশাপাশি আর্থিকভাবে অসচ্ছল পূজামণ্ডপগুলোকেও জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহযোগিতা করা হচ্ছে।
এবার পূজার আয়োজন ও মানুষের অংশগ্রহণ বেড়েছে বলেও জানান তিনি। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশে প্রায় দেড় হাজার নতুন পূজামণ্ডপ স্থাপন করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম জেলাতেই প্রায় ৪০০টি নতুন সর্বজনীন পূজামণ্ডপ রয়েছে।
সম্প্রতি বাঁশখালীর প্রত্যন্ত জেলেপল্লির পূজামণ্ডপ
পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জেলা প্রশাসক বলেন, সেখানকার মানুষের আন্তরিকতায় তিনি অভিভূত হয়েছেন।
প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে উৎসবের আমেজ আরও বাড়বে বলে আশা করছে প্রশাসন ও পূজা উদ্যাপন কমিটি। উৎসবের আনন্দ নিশ্চিত করার পাশাপাশি চট্টগ্রামের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য তুলে ধরাই এবারের আয়োজনের অন্যতম লক্ষ্য।






