পিএসসিতে দলীয় নিয়োগ হলে রাজপথে নামার হুঁশিয়ারি শিবিরের

চেয়ারম্যান ও সদস্যদের পদত্যাগ ঘিরে সরকারের বিরুদ্ধে দলীয়করণের অভিযোগ; জুলাই সনদের আলোকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ কমিশন পুনর্গঠনের দাবি।
টুইট প্রতিবেদক: বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশনকে (পিএসসি) দলীয়করণের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির। প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া কমিশনে কোনো দলীয় ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি। রাজনৈতিক স্বার্থে পিএসসিকে ব্যবহার করা হলে ছাত্র-জনতা রাজপথে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে বলেও জানিয়েছে তারা।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম ও সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এসব বক্তব্য তুলে ধরেন। পিএসসির চেয়ারম্যান ও একের পর এক সদস্যের পদত্যাগের ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁরা।
পিএসসির নেতৃত্ব পরিবর্তন নিয়ে প্রশ্ন
বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের নেতারা বলেন, ৫৪ বছরের ইতিহাসে রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ এই সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানকে বারবার রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহারের ঘটনা ঘটেছে। এর ফলে মেধাভিত্তিক নিয়োগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তাঁদের অভিযোগ, মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই পিএসসির চেয়ারম্যান ও সদস্যদের কৌশলে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এ ধরনের পদক্ষেপের পেছনে কী উদ্দেশ্য রয়েছে, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
নেতারা আরও বলেন, ছাত্র-জনতার জুলাই অভ্যুত্থানের অন্যতম প্রধান আকাঙ্ক্ষা ছিল মেধাভিত্তিক বাংলাদেশ গঠন এবং রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর আমূল সংস্কার। কিন্তু জুলাই সনদের আলোকে পিএসসিকে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও গতিশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার পরিবর্তে সেখানে আবারও দলীয় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা চলছে বলে তাঁরা অভিযোগ করেন।
অন্যান্য প্রতিষ্ঠানেও দলীয় প্রভাবের অভিযোগ
বিবৃতিতে সরকারের বিরুদ্ধে বিভিন্ন রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানে দলীয় প্রভাব বিস্তারের অভিযোগও তোলা হয়। ছাত্রশিবিরের নেতাদের দাবি, রাষ্ট্র সংস্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হলেও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করার চেষ্টা চলছে।
এ প্রসঙ্গে উচ্চ আদালত, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও মাঠ প্রশাসনের শীর্ষ পদে নিয়োগের ক্ষেত্রে মেধা ও জ্যেষ্ঠতা উপেক্ষা, প্রশ্নপত্র ফাঁস, যাচাই-বাছাইয়ের নামে মেধাবীদের বাদ দেওয়া এবং দলীয় বিবেচনায় নিয়োগের মতো অভিযোগ তুলে ধরেন তাঁরা।
নেতারা প্রশ্ন তোলেন, ক্ষমতা সুসংহত করতে স্বাধীন ও সংবিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে নিয়ন্ত্রণে নেওয়ার কোনো পরিকল্পনা চলছে কি না। পিএসসির শীর্ষ নেতৃত্বে ধারাবাহিক পরিবর্তনও সেই পরিকল্পনার অংশ কি না, তা অনুসন্ধানের দাবি জানান তাঁরা।
মন্ত্রীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, নাম প্রকাশ করেনি শিবির
বিবৃতিতে ছাত্রশিবিরের নেতারা অভিযোগ করেন, তাঁদের কাছে তথ্য এসেছে যে একজন মন্ত্রী পিএসসির সদস্যদের ডেকে নিয়ে রাজনৈতিক সরকারের ইচ্ছা অনুযায়ী কাজ করার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তবে ওই মন্ত্রীর নাম উল্লেখ করা হয়নি।
তাঁরা বলেন, কোনো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান কোনো মন্ত্রীর পারিবারিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান নয়। পিএসসিকে রাজনৈতিক সরকারের ইচ্ছা পূরণের হাতিয়ারে পরিণত করার অধিকার কারও নেই।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রী বা সরকারের বক্তব্য বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।
সংস্কার করে নিরপেক্ষ কমিশন গঠনের দাবি
ছাত্রশিবিরের নেতারা হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, প্রয়োজনীয় সংস্কার ছাড়া পিএসসিতে কোনো দলীয় ব্যক্তিকে নিয়োগ দেওয়া হলে তা মেনে নেওয়া হবে না। রাজনৈতিক স্বার্থে প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যবহার করার চেষ্টা হলে ছাত্র-জনতা আবারও রাজপথে তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তুলবে।
বিবৃতিতে পিএসসিকে সব ধরনের রাজনৈতিক সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে রেখে স্বাধীন, নিরপেক্ষ ও গতিশীল প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে জুলাই সনদের আলোকে সৎ, দক্ষ ও যোগ্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে কমিশন পুনর্গঠন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি দাবি জানায় সংগঠনটি।






