জাতীয় স্বার্থ ও সার্বভৌমত্ব রক্ষাই হবে আগামীর বাংলাদেশের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী

টুইট ডেস্ক : জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও আত্মমর্যাদা রক্ষাকে আগামীর বাংলাদেশের মূল অঙ্গীকার হিসেবে উল্লেখ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সমতার ভিত্তিতে সব দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও সহযোগিতা সুদৃঢ় করতে চায় বাংলাদেশ।
রোববার সকালে সাভার সেনানিবাসে সাতটি ব্যাটালিয়ন ও রেজিমেন্টকে জাতীয় পতাকা প্রদান অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সশস্ত্র বাহিনীকে আরও প্রযুক্তিনির্ভর, দক্ষ, শৃঙ্খলাবদ্ধ, পেশাদার ও আধুনিক বাহিনী হিসেবে গড়ে তোলার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। একটি আধুনিক বাহিনীর শক্তি শুধু অস্ত্র, সরঞ্জাম কিংবা জনবলে সীমাবদ্ধ নয়; শৃঙ্খলা, নেতৃত্ব, নৈতিকতা, প্রশিক্ষণ এবং জনগণের আস্থাও এর গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি। এ ক্ষেত্রে নির্দেশনা ও নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
জাতীয় পতাকা প্রদানকে সংশ্লিষ্ট ইউনিটের ইতিহাস, ঐতিহ্য, আত্মত্যাগ ও পেশাদারত্বের স্বীকৃতি হিসেবে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, পতাকার মর্যাদা রক্ষা করা প্রত্যেক সৈনিকের দায়িত্ব। স্বাধীনতা ও মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়েই বাংলাদেশের সেনাবাহিনীর জন্ম হয়েছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
মুক্তিযুদ্ধে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ভূমিকা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সালের মার্চে পাকিস্তানি বাহিনীর হামলার পর চট্টগ্রামে অষ্টম ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টের সদস্যরা সশস্ত্র প্রতিরোধে অংশ নেন। স্বাধীনতার ঘোষণা ও মুক্তিযুদ্ধের সূচনালগ্নের ঘটনাগুলো বাংলাদেশের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের দায়িত্ব পালনে সংবিধান, আইন, সামরিক বিধিবিধান ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি অবিচল থাকার প্রত্যাশা জানান প্রধানমন্ত্রী।
বর্তমান বিশ্বের পরিবর্তিত নিরাপত্তা পরিস্থিতি তুলে ধরে তিনি বলেন, স্থল, সমুদ্র ও আকাশের পাশাপাশি সাইবার পরিসর, মহাকাশ, চালকবিহীন উড়োজাহাজ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, ইলেকট্রনিক যুদ্ধ ও তথ্যভিত্তিক সক্ষমতা জাতীয় নিরাপত্তার গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে। এসব পরিবর্তনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে দেশের প্রতিরক্ষা প্রস্তুতি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সশস্ত্র বাহিনীর আধুনিকায়নের পাশাপাশি অস্ত্র, গোলাবারুদ ও প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দেশে উৎপাদনের লক্ষ্যে দেশীয় প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি সেনা, নৌ ও বিমানবাহিনীর মধ্যে সমন্বিত প্রতিরক্ষা সক্ষমতা গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
দেশের দুর্যোগ ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার প্রশংসা করে তারেক রহমান বলেন, বন্যা, ঘূর্ণিঝড়, অগ্নিকাণ্ডসহ বিভিন্ন সংকটে তারা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করে। বিদেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনেও সুনামের সঙ্গে কাজ করছেন সদস্যরা।
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের কল্যাণ, আবাসন, চিকিৎসা, শিক্ষা, প্রশিক্ষণ, পেশাগত উন্নয়ন ও অবসর-পরবর্তী নিরাপত্তাকে সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, জাতীয় পে-স্কেলে সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের বেতন ও ভাতা ১০০ থেকে ১৩৮ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। এ ছাড়া ‘এক পদমর্যাদা, এক পেনশন’ ব্যবস্থা বাস্তবায়নের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
অনুষ্ঠানে পেশাগত সাফল্যের স্বীকৃতি হিসেবে ৭ ও ৩২ ফিল্ড রেজিমেন্ট আর্টিলারি, ২৫ এয়ার ডিফেন্স রেজিমেন্ট, ৯ ইঞ্জিনিয়ার ব্যাটালিয়ন, ৫৬ ও ৫৭ ইস্ট বেঙ্গল এবং প্রেসিডেন্ট গার্ড রেজিমেন্টকে জাতীয় পতাকা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার সদস্য, সেনাবাহিনী প্রধান, কূটনৈতিক প্রতিনিধি এবং সশস্ত্র বাহিনীর সাবেক ও বর্তমান কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।






