লোহাগাড়ায় কৃষিজমির উর্বর মাটি দিয়ে ইট তৈরি না করার আহ্বান

উর্বর উপরিভাগের মাটি ব্যবহারে কমে জমির উৎপাদনক্ষমতা, কাঠ পোড়ালে বাড়ে বায়ুদূষণ; অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে নজরদারি অব্যাহত রাখার ঘোষণা নৌ

টুইট প্রতিবেদক: চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি দিয়ে ইট তৈরি এবং ইট পোড়াতে জ্বালানি কাঠ ব্যবহার না করার আহ্বান জানিয়েছে পরিবেশ অধিদপ্তর। একই সঙ্গে অবৈধ ইটভাটায় আগুন না দেওয়ার বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উদ্যোগে উপজেলার বিভিন্ন ইটভাটায় লিফলেট বিতরণ করে এ বিষয়ে সচেতনতা সৃষ্টি করা হয়।

কর্মসূচিতে বিশেষভাবে সনাতন পদ্ধতির ড্রাম চিমনি ও স্থায়ী চিমনিবিশিষ্ট অবৈধ ইটভাটাগুলোকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। এসব ভাটায় কার্যক্রম পরিচালনা থেকে বিরত থাকার পাশাপাশি ইট তৈরিতে পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর উপকরণ ব্যবহার না করার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সতর্ক করা হয়।

পরিবেশ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইটভাটায় জ্বালানি হিসেবে কাঠ ব্যবহার করলে বায়ুদূষণ বাড়ে। অন্যদিকে, কৃষিজমির উপরিভাগের উর্বর মাটি কেটে ইট তৈরিতে ব্যবহার করা হলে জমির স্বাভাবিক উর্বরতা কমে যায়। এর ফলে কৃষি উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পরিবেশের ওপর দীর্ঘমেয়াদি বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে।

কৃষিজমির উর্বরতা ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় অবৈধ ইটভাটার কার্যক্রম বন্ধ রাখা এবং ইট প্রস্তুতে কাঠ ও কৃষিজমির উপরিভাগের মাটির ব্যবহার পরিহার করা জরুরি বলে মনে করছে পরিবেশ অধিদপ্তর। এ লক্ষ্যেই স্থানীয় পর্যায়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।

কর্মসূচিতে পরিবেশ অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. মোজাহিদুর রহমান ও পরিদর্শক চন্দন বিশ্বাস উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা বিভিন্ন ইটভাটায় লিফলেট বিতরণের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পরিবেশবিধি মেনে চলার আহ্বান জানান।

মো. মোজাহিদুর রহমান বলেন, অবৈধ ইটভাটায় আগুন দেওয়া এবং ইট তৈরিতে জ্বালানি কাঠ ও কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি ব্যবহার থেকে বিরত থাকতে সংশ্লিষ্টদের সতর্ক করা হয়েছে। পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় সবাইকে সচেতন হতে হবে। পরিবেশবিধি লঙ্ঘন করে কেউ যেন ইটভাটার কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারেন, সে বিষয়ে অধিদপ্তরের নজরদারি অব্যাহত থাকবে।

পরিবেশ সুরক্ষা ও কৃষিজমির উৎপাদনক্ষমতা বজায় রাখতে আইন মেনে ইট উৎপাদন নিশ্চিত করার পাশাপাশি অবৈধ ইটভাটার বিরুদ্ধে কার্যকর নজরদারি ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে পরিবেশ অধিদপ্তর।