ভুটানে লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস পালন

উপমহাদেশের মরমি সাধকের মানবতাবাদী দর্শন ও সম্প্রীতির বার্তা তুলে ধরল বাংলাদেশ দূতাবাস।
টুইট প্রতিবেদক: ভুটানের রাজধানী থিম্পুতে বাংলার মরমি সাধক ফকির লালন শাহের ১৩৬তম তিরোধান দিবস পালন করেছে বাংলাদেশ দূতাবাস। এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে লালনের জীবন, দর্শন ও সংগীতের মধ্য দিয়ে সাম্য, মানবতা, সহনশীলতা এবং অসাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির চিরন্তন বার্তা তুলে ধরা হয়।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) থিম্পুতে বাংলাদেশ দূতাবাসের মিলনায়তনে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এতে ভুটানের সরকারি কর্মকর্তা, কূটনীতিক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধি, শিক্ষার্থী ও প্রবাসী বাংলাদেশিরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মালেকা পারভীন লালন শাহের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। তিনি লালনকে বাংলার অন্যতম শ্রেষ্ঠ আধ্যাত্মিক চিন্তাবিদ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, তাঁর গান ও দর্শন জাতি, ধর্ম, বর্ণ এবং সামাজিক অবস্থানের ঊর্ধ্বে উঠে সাম্য, ভালোবাসা ও সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ধর্মীয় সংকীর্ণতা ও সামাজিক বৈষম্য অতিক্রম করে মানবতার কথা বলেছেন লালন শাহ। তাঁর দর্শন আজও বিশ্বজুড়ে মানবতাবাদী চিন্তাবিদ ও মানবিক মূল্যবোধে বিশ্বাসী মানুষকে অনুপ্রাণিত করছে।
তিনি আরও বলেন, বর্তমান বিশ্বে সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ প্রতিষ্ঠায় লালনের দর্শন অত্যন্ত প্রাসঙ্গিক। বাংলাদেশের সমৃদ্ধ লোকজ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে তাঁর সৃষ্টি দেশের অসাম্প্রদায়িক, উদার ও মানবতাবাদী পরিচয়কে বিশ্বদরবারে তুলে ধরে।
নতুন প্রজন্মের মধ্যে লালন শাহের মানবতাবাদী দর্শন ও বাংলাদেশের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ছড়িয়ে দেওয়ার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন রাষ্ট্রদূত।
অনুষ্ঠানে লালন শাহের জীবন, দর্শন ও সংগীতজীবনের ওপর নির্মিত একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়। পরে সাংস্কৃতিক পর্বে ভুটানের রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব পারফর্মিং আর্টসের শিল্পীরা এবং বাংলাদেশি প্রবাসী চিকিৎসক নাদিয়া নাসরিন লালন শাহের জনপ্রিয় কয়েকটি আধ্যাত্মিক গান পরিবেশন করেন।
শিল্পীদের পরিবেশনায় লালনের অসাম্প্রদায়িক চেতনা, মানবপ্রেম ও সর্বজনীন সম্প্রীতির বার্তা ফুটে ওঠে। দুই দেশের সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে বাংলার লোকজ ঐতিহ্য ও লালনসংগীতের পরিচিতি তুলে ধরার ক্ষেত্রেও অনুষ্ঠানটি তাৎপর্যপূর্ণ হয়ে ওঠে।
অনুষ্ঠানে ভুটানের পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাসহ দেশটির সরকারের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া কূটনৈতিক কোরের সদস্য, জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার প্রতিনিধি, রয়্যাল ইনস্টিটিউট অব পারফর্মিং আর্টসের শিল্পী, ভুটানি শিক্ষার্থী, প্রবাসী বাংলাদেশি এবং দূতাবাসের কর্মকর্তারা অংশ নেন।
লালন শাহের দর্শন ও সংগীতের মাধ্যমে মানবতা, সাম্য এবং ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে মানুষের মর্যাদার যে বার্তা ছড়িয়ে পড়ে, তা বাংলাদেশি সংস্কৃতির আন্তর্জাতিক পরিচিতি ও দুই দেশের মানুষের মধ্যে সাংস্কৃতিক বন্ধন জোরদারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।






