সৌদি আরামকোর সদরদপ্তরে হুথি হামলা, ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে ধোঁয়াশা

সরকারি ভাষ্যে ‘সীমিত আগুন’, রয়টার্স ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সূত্রের দাবি—ওপরের তিন তলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি।

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: সৌদি আরবের ধাহরানে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর সদরদপ্তর কমপ্লেক্সে মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ২০২৬) রাতে হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের সূত্রগুলোর বর্ণনায় বড় পার্থক্য রয়েছে।

সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি প্রশাসনিক ভবনে ‘সীমিত আগুন’ লাগে। দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয় এবং কোনো হতাহতের খবর নেই।

অন্যদিকে, রয়টার্সের তিনটি সূত্রের দাবি, আগুন ভবনের ষষ্ঠ থেকে দশম তলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়ে। ওপরের তিনটি তলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়; ছাদের অংশ ধসে পড়ে এবং জানালা-দরজা উড়ে যায়। এক সূত্রের দাবি, বুধবার ভোরেও আগুন জ্বলছিল। ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের সূত্রগুলোও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির কথা জানিয়েছে।

কমপ্লেক্সটি আরামকোর প্রধান পরিচালনাকেন্দ্র, যেখান থেকে তেল উত্তোলন রিগ, শোধনাগার, রপ্তানি টার্মিনাল ও হাজার হাজার কিলোমিটার পাইপলাইন তদারকি করা হয়। সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, কার্যক্রম সচল থাকলেও কিছু কর্মীকে বাড়ি থেকে কাজ করতে বলা হয়েছে এবং কয়েকটি কার্যক্রম অন্য বৈশ্বিক কার্যালয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে। তেল উৎপাদন ও রপ্তানিতে বড় ধরনের বিঘ্নের আনুষ্ঠানিক খবর নেই। হামলার পর তেলের দামে কিছুটা প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

রিয়াদেও হামলার দাবি

হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি দাবি করেছেন, ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোন দিয়ে ধাহরানের আরামকো সদরদপ্তর, রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও একটি আরামকো শোধনাগার লক্ষ্য করা হয়েছে। সৌদি বিমানবন্দর ও তেল স্থাপনায় হামলা অব্যাহত রাখার হুমকিও দিয়েছে গোষ্ঠীটি।

হুথিদের দাবি, ইয়েমেনে সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোটের হামলার জবাবে এ অভিযান চালানো হয়েছে, বিশেষ করে সানায় তেল ডিপোতে হামলার প্রতিক্রিয়ায়। অন্যদিকে, সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোট জানিয়েছে, তারা বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে। রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ পড়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন এবং কিছু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে প্রদত্ত তথ্যে উল্লেখ রয়েছে।

১৫ অক্টোবর ভোর পর্যন্ত অবস্থা

১৫ অক্টোবর পর্যন্ত নতুন বড় কোনো অগ্রগতির তথ্য পাওয়া যায়নি বলে সরবরাহ করা বিবরণে উল্লেখ করা হয়েছে। আরামকোর বিস্তারিত মন্তব্যও নিশ্চিত নয়।

মূল প্রশ্ন এখন ক্ষয়ক্ষতির প্রকৃত মাত্রা

সরকারি বক্তব্যে সীমিত আগুনের কথা বলা হলেও সংবাদমাধ্যমের সূত্রগুলো ভবনের ওপরের তলাগুলোতে গুরুতর ক্ষতির দাবি করেছে। উৎপাদন ও রপ্তানি সচল থাকার তথ্য তাৎক্ষণিক প্রভাব সীমিত থাকার ইঙ্গিত দিলেও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব এখনো স্পষ্ট নয়।

সূত্র: রয়টার্স, ব্লুমবার্গ, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল, সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়, হুথি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি এবং সৌদি-নেতৃত্বাধীন জোটের বক্তব্য।