রাজশাহীতে তালাবদ্ধ ঘরে বৃদ্ধার মরদেহ, হত্যার রহস্য খুঁজছে পুলিশ

রাজশাহীতে বেলী রানী হত্যা: জিজ্ঞাসাবাদে তিনজন, পাশে মিলল চাকু-লাঠি। বাইরে থেকে তালাবদ্ধ ঘরে অর্ধগলিত মরদেহ; পরিকল্পিত হত্যার সন্দেহ, জমি ও পূর্বশত্রুতার বিষয়ও খতিয়ে দেখছে পুলিশ।

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজশাহী মহানগরীর কেদুর মোড় এলাকায় বেলী রানী (৭০) হত্যা মামলার তদন্তে গৃহকর্মী বা কেয়ারটেকারসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়েছে পুলিশ।

রোববার (১১ অক্টোবর) গভীর রাতে ‘বেলী ভিলা’ নামের একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলার কক্ষ থেকে তাঁর অর্ধগলিত ও রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মরদেহের পাশে একটি চাকু ও লাঠি পাওয়া গেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

সোমবার (১২ অক্টোবর) পর্যন্ত এ ঘটনায় কাউকে গ্রেপ্তার কিংবা সুনির্দিষ্ট সন্দেহভাজন হিসেবে কারও নাম প্রকাশের তথ্য পাওয়া যায়নি। হত্যার কারণ ও জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করতে তদন্ত চলছে।

স্থানীয় সূত্রের বরাতে প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, বেলী রানী বাড়িটির দ্বিতীয় তলায় একাই বসবাস করতেন। শুক্রবারের পর থেকে তাঁকে আর দেখা যায়নি। তাঁর কক্ষের দরজা বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকায় প্রতিবেশীরা ধারণা করেছিলেন, তিনি আত্মীয়ের বাড়িতে গেছেন।
রোববার রাতে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবেশী ও স্বজনদের সন্দেহ হয়। পরে পুলিশকে খবর দেওয়া হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে দরজা ভেঙে কক্ষের মেঝেতে তাঁর রক্তাক্ত মরদেহ দেখতে পায়।

শরীরে আঘাতের চিহ্ন, পাশে চাকু ও লাঠি

প্রাথমিক পর্যবেক্ষণে নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে চাকু ও লাঠি উদ্ধারের তথ্যও এসেছে। এসব আলামত পরীক্ষা এবং ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন হত্যাকাণ্ডের ধরন ও মৃত্যুর কারণ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।

পুলিশের প্রাথমিক ধারণা, দুই থেকে তিন দিন আগে তাঁকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। ঘটনাটি পরিকল্পিত কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

জিজ্ঞাসাবাদে তিনজন, খতিয়ে দেখা হচ্ছে সম্ভাব্য কারণ

বোয়ালিয়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মাছুমা মুস্তারী—সংবাদমাধ্যমে নামের বানানে কিছুটা ভিন্নতা রয়েছে—জানিয়েছেন, গৃহকর্মী বা কেয়ারটেকারসহ তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেওয়া হয়েছে। তবে তাঁদের কাউকে হত্যাকাণ্ডে জড়িত বলে নিশ্চিত করা হয়নি।

মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পাশাপাশি মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছিল বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

হত্যার পেছনে জমিজমাসংক্রান্ত বিরোধ, পূর্বশত্রুতা কিংবা অন্য কোনো কারণ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। তবে এখনো হত্যার উদ্দেশ্য বা জড়িত ব্যক্তিদের বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

উত্তর খুঁজছে তদন্তকারীরা

একাকী বসবাসকারী ৭০ বছর বয়সী এক নারীর নিজ বাড়িতে এমন মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। দরজায় বাইরে থেকে তালা লাগানো, মরদেহের পাশে ধারালো অস্ত্র ও লাঠি পাওয়া এবং মৃত্যুর সম্ভাব্য সময়—সবকিছু মিলিয়ে তদন্তে একাধিক বিষয় যাচাই করতে হচ্ছে।

ময়নাতদন্তের ফল, উদ্ধার করা আলামতের পরীক্ষা এবং জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত ঘটনা স্পষ্ট হতে পারে। তবে তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কাউকে দায়ী করা বা হত্যার উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।

সূত্র: প্রথম আলো, বাংলাদেশ প্রতিদিন ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যম।