আকাশে হাইড্রোলিক ত্রুটি, কীভাবে নিরাপদে নামল বিমান

ঢাকায় অবতরণের আগে বিমানের নোজ ল্যান্ডিং গিয়ারে ত্রুটি, ৮২ আরোহী নিয়ে নিরাপদে অবতরণ।কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী বিজি-৪৩৬ ফ্লাইটে হাইড্রোলিক সিস্টেমে ত্রুটি; বিকল্প পদ্ধতিতে ল্যান্ডিং গিয়ার সম্প্রসারণের পর অবতরণ।
নিজস্ব প্রতিবেদক: হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কক্সবাজার–ঢাকাগামী বিজি-৪৩৬ ফ্লাইটের জরুরি অবতরণের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছিল। উড়োজাহাজটির নোজ ল্যান্ডিং গিয়ার স্বাভাবিকভাবে সম্প্রসারণে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর পাইলটের কার্যকর পদক্ষেপে বিকল্প পদ্ধতিতে গিয়ার সম্প্রসারণ করা হয়।
৭৮ জন যাত্রী ও চারজন ক্রুসহ মোট ৮২ জন আরোহী নিয়ে উড়োজাহাজটি নিরাপদে অবতরণ করে।
শনিবার (১০ অক্টোবর ২০২৬) বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ড্যাশ-৮ (DH-8) মডেলের উড়োজাহাজটি দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশে যাত্রা করে। উড়োজাহাজটির নির্ধারিত অবতরণের সময় ছিল দুপুর ২টা ৩০ মিনিট।
উড্ডয়নের পর উড়োজাহাজটির ২ নম্বর হাইড্রোলিক সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দেয়। এতে নোজ ল্যান্ডিং গিয়ার স্বাভাবিকভাবে সম্প্রসারণে সমস্যা তৈরি হয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় পাইলট দুপুর ২টা ২০ মিনিটে এরিয়া কন্ট্রোলের মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতির কথা জানান। সে সময় উড়োজাহাজটি আনুমানিক ১৮ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থান করছিল। পরে এরিয়া কন্ট্রোল থেকে ঢাকা টাওয়ারকে বিষয়টি অবহিত করা হয়।
জরুরি বার্তা পাওয়ার পরপরই ঢাকা টাওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বিমানবন্দরের ফায়ার সার্ভিস ও রেসকিউ টিমকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়। একই সঙ্গে মার্শালিংয়ের প্রস্তুতিসহ সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর মধ্যে প্রয়োজনীয় সমন্বয় ও যোগাযোগ নিশ্চিত করা হয়, যাতে জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
পাইলটের কার্যকর পদক্ষেপে বিকল্প পদ্ধতিতে উড়োজাহাজটির নোজ ল্যান্ডিং গিয়ার সম্প্রসারণ সম্ভব হয়। এর ফলে দুপুর ৩টা ৯ মিনিটে উড়োজাহাজটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে।
অবতরণের পর যাত্রী ও ক্রু সদস্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
ঘটনার সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা), হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকসহ বিমানবন্দর ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।
জরুরি পরিস্থিতিতে পাইলটের কার্যকর পদক্ষেপ এবং বিমানবন্দরের সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর সমন্বিত প্রস্তুতির মাধ্যমে উড়োজাহাজটির নিরাপদ অবতরণ নিশ্চিত করা সম্ভব হয়।






