রূপপুরের প্রথম ইউনিট থেকে শিগগিরই বিদ্যুৎ সরবরাহ

দ্বিতীয় ইউনিটের প্রাথমিক কার্যক্রম শুরু হবে আগামী বছর, দাবি রোসাটমের।

টুইট ডেস্ক: রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের প্রথম ইউনিট থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছে রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি করপোরেশন রোসাটম।

একই সঙ্গে ২০২৭ সালে কেন্দ্রটির দ্বিতীয় ইউনিটের পরীক্ষামূলক কার্যক্রম ও প্রাথমিক চালুর প্রক্রিয়া শুরু করার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে সংস্থাটি।

শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাশিয়ার মস্কোয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে রোসাটমের মহাপরিচালক অ্যালেক্সি লিখাচেভের দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে এসব বিষয়ে আলোচনা হয়। বৈঠকে বাংলাদেশের প্রথম পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অগ্রগতি এবং প্রথম ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের সম্ভাব্য সময়সীমা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়।

রোসাটমের মহাপরিচালক জানান, রূপপুরের প্রথম ইউনিটে স্থাপিত ভিভিইআর-১২০০ চুল্লি থেকে দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতীয় গ্রিডে পরীক্ষামূলকভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার বিষয়ে তারা আশাবাদী। তাঁর মতে, এ প্রকল্প বাংলাদেশের বিদ্যুৎ নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি পরিবেশবান্ধব ও সাশ্রয়ী জ্বালানি সরবরাহে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

দ্বিতীয় ইউনিটের অগ্রগতি সম্পর্কে লিখাচেভ জানান, আগামী বছর থেকেই এ ইউনিটের যন্ত্রপাতি ও ব্যবস্থাপনা পরীক্ষাসহ প্রাথমিক চালুর আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু হবে। এর মধ্য দিয়ে রূপপুর প্রকল্পের দ্বিতীয় ইউনিট চালুর প্রস্তুতিও এগিয়ে নেওয়া হবে।

বৈঠকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেন, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের দুটি ইউনিটের মোট উৎপাদনক্ষমতা ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াট। কেন্দ্রটি পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে দেশের মোট বিদ্যুৎ চাহিদার প্রায় ১১ শতাংশ পূরণ করা সম্ভব হবে।

বিশেষজ্ঞদের কাছে প্রকল্পটির গুরুত্বের অন্যতম দিক হলো, বিদ্যুৎ উৎপাদনে জ্বালানির উৎস বহুমুখী করার সুযোগ। তবে নির্ধারিত সময়ে উৎপাদন শুরু, নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা এবং জাতীয় গ্রিডে নিরবচ্ছিন্নভাবে বিদ্যুৎ সরবরাহের সক্ষমতা অর্জনই হবে প্রকল্পটির বাস্তব সাফল্যের গুরুত্বপূর্ণ মাপকাঠি।

বৈঠকে রূপপুর প্রকল্প বাস্তবায়নের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের পারমাণবিক শক্তি খাতের ভবিষ্যৎ সম্প্রসারণের বিষয়েও দুই পক্ষ একমত হয়। পাশাপাশি বাংলাদেশ ও রাশিয়ার মধ্যে পারমাণবিক শক্তি খাতে দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতা আরও জোরদার করার উপায় নিয়েও আলোচনা হয়।

উল্লেখ্য, রূপপুরের দুটি ইউনিট পূর্ণ সক্ষমতায় চালু হলে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনে বড় ধরনের সংযোজন ঘটবে। তবে প্রথম ইউনিট থেকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ সরবরাহের সুনির্দিষ্ট সময়সূচি এবং দ্বিতীয় ইউনিট চালুর অগ্রগতি প্রকল্পটির বাস্তবায়ন পরিস্থিতি মূল্যায়নে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।