ভুবনেশ্বরের ফেরার নেপথ্যে

নিউজিল্যান্ড সফরের দলে ৩৬ বছর বয়সী পেসার, বিশ্বকাপ পরিকল্পনাতেও নজরে।
টুইট প্রতিবেদক: প্রায় চার বছর পর আবারও ভারতের জাতীয় দলে ফিরেছেন অভিজ্ঞ পেসার ভুবনেশ্বর কুমার। ৩৬ বছর বয়সী এই পেসারকে নিউজিল্যান্ড সফরের টি-টোয়েন্টি দলে রাখা হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর তাঁর এই প্রত্যাবর্তন নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন উঠেছে,হঠাৎ কেন তাঁকে ফেরানো হলো?
এর মূল কারণ সাম্প্রতিক সময়ের ধারাবাহিক পারফরম্যান্স। বয়স বাড়লেও বল হাতে ভুবনেশ্বরের কার্যকারিতা কমেনি, বরং ঘরোয়া ক্রিকেট ও আইপিএলে নিয়মিত ভালো করেছেন তিনি।
ভারতের হয়ে ভুবনেশ্বর সর্বশেষ খেলেছেন ২০২২ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে। টেস্টে তাঁর শেষ ম্যাচ ২০১৮ সালের জানুয়ারিতে এবং এক দিনের ক্রিকেটে সর্বশেষ খেলেছেন ২০২২ সালের জানুয়ারিতে।
জাতীয় দলের বাইরে থাকার সময় ঘরোয়া ক্রিকেটের পাশাপাশি আইপিএলে নিয়মিত খেলেছেন ভুবনেশ্বর। ২০২৩ সাল থেকে আইপিএলে তাঁর শিকার ৭২ উইকেট, যা এই সময়ে প্রতিযোগিতাটিতে যেকোনো বোলারের মধ্যে সর্বোচ্চ। তাঁর বোলিং গড় ২৬ দশমিক ৯৭ এবং রান দেওয়ার হার ৮ দশমিক ৭।
নতুন বলে সুইং করানো, দুই দিকে বল সরানো এবং নিয়ন্ত্রিত বোলিং,ভুবনেশ্বরের পুরোনো শক্তিগুলো এখনো অটুট। বিশেষ করে নতুন বলে তাঁর অভিজ্ঞতা ভারতীয় দলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হতে পারে।
তবে তাঁর প্রত্যাবর্তন শুধু নিউজিল্যান্ড সফরকে ঘিরে নয়। ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ২০২৭ সালের এক দিনের বিশ্বকাপের সম্ভাব্য দল নিয়েও ভুবনেশ্বরকে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে সেই পরিকল্পনায় বড় প্রশ্ন তাঁর বয়স ও শারীরিক সক্ষমতা। ৫০ ওভারের ক্রিকেটে ভুবনেশ্বর সর্বশেষ খেলেছেন ২০২৩ সালের বিজয় হাজারে ট্রফিতে। ফলে দীর্ঘ সময় মাঠে থেকে এক দিনের ম্যাচের চাপ সামলাতে তিনি কতটা প্রস্তুত, সেটিই এখন দেখার বিষয়।
নিউজিল্যান্ড সফর তাই ভুবনেশ্বরের জন্য শুধু জাতীয় দলে ফেরার সুযোগ নয়, বরং বড় পরীক্ষাও। তাঁর শারীরিক সক্ষমতা, দীর্ঘ সময় বোলিং করার সামর্থ্য এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ সামলানোর ক্ষমতা যাচাইয়ের গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ হতে পারে এই সফর।
নিজেও আরেকটি বিশ্বকাপে খেলতে চান ভুবনেশ্বর। সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানিয়েছেন, তাঁর শরীর প্রস্তুত এবং নিয়মিত অনুশীলন করছেন। তবে বিশ্বকাপের কথা মাথায় রেখে নয়, নিজের আগ্রহ থেকেই প্রস্তুতি চালিয়ে যাচ্ছেন তিনি।
চার বছর পর জাতীয় দলে ফিরে ভুবনেশ্বর এখন কতটা কার্যকর প্রমাণ করতে পারেন, তার ওপরই নির্ভর করছে তাঁর আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের পরবর্তী অধ্যায়। আর সেই পরীক্ষার ফল ভালো হলে ৩৬ বছর বয়সী এই পেসারের সামনে খুলে যেতে পারে আরও বড় প্রত্যাবর্তনের দরজা।






