বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার মান নিয়ে প্রশ্ন

নেতৃত্ব ও অবকাঠামোর ঘাটতিতে ঝুঁকিতে উচ্চশিক্ষা, দ্রুত ব্যবস্থা জরুরি।
টুইট প্রতিবেদক: দেশে উচ্চশিক্ষার বিস্তারে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি প্রতিষ্ঠান শিক্ষার মান, গবেষণা ও অবকাঠামোর দিক থেকে দেশের শীর্ষস্থানীয় সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করছে। তবে বিপরীত চিত্রও রয়েছে। পর্যাপ্ত অবকাঠামো, শিক্ষক ও প্রশাসনিক নেতৃত্ব ছাড়াই কিছু বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালিত হওয়ায় শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দেশে বর্তমানে ১১৭টি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ৩০টিতে উপাচার্য নেই, ৮৯টিতে সহ-উপাচার্য নেই এবং ৪০টিতে কোষাধ্যক্ষের পদ শূন্য। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয়, ১৪টি বিশ্ববিদ্যালয়ে এই তিনটি গুরুত্বপূর্ণ পদই খালি রয়েছে। দীর্ঘদিন এমন নেতৃত্বশূন্যতা থাকলে একাডেমিক পরিকল্পনা, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহি ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে।
প্রশাসনিক নেতৃত্বের শূন্যতার পাশাপাশি অবকাঠামোগত ঘাটতিও রয়েছে। আইন অনুযায়ী প্রতিষ্ঠার ১২ বছরের মধ্যে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজস্ব স্থায়ী ক্যাম্পাসে শিক্ষা কার্যক্রম স্থানান্তর করার কথা। এখন পর্যন্ত ৫৪টি বিশ্ববিদ্যালয় নিজস্ব ক্যাম্পাস প্রতিষ্ঠা করলেও ২৮টি বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত সময় পার হওয়ার পরও সেই শর্ত পূরণ করতে পারেনি।
এ ধরনের পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে পড়ছেন শিক্ষার্থীরা। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনার জন্য অভিভাবকদের বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করতে হয়। তাঁদের প্রত্যাশা থাকে, সন্তান মানসম্মত উচ্চশিক্ষা নিয়ে কর্মক্ষেত্রের জন্য প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জন করবে। কিন্তু প্রয়োজনীয় শিক্ষক, শ্রেণিকক্ষ, পরীক্ষাগার, গ্রন্থাগার ও প্রশাসনিক নেতৃত্বের ঘাটতি থাকলে সেই প্রত্যাশা পূরণ কঠিন।
বর্তমানে বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে সাড়ে তিন লাখের বেশি শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছেন। তাঁদের ভবিষ্যৎ বিবেচনায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়ানোর চেয়ে বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর শিক্ষার মান নিশ্চিত করাই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। যেসব প্রতিষ্ঠান আইন ও একাডেমিক শর্ত পূরণ করছে না, সেসব বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের কার্যকর নজরদারি ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা জরুরি।
একই সঙ্গে শীর্ষ প্রশাসনিক পদগুলো দ্রুত পূরণের ক্ষেত্রে যোগ্যতা, স্বচ্ছতা ও অভিজ্ঞতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার অনুমোদন দেওয়ার ক্ষেত্রেও শুধু সংখ্যাগত সম্প্রসারণ নয়, প্রয়োজনীয় অবকাঠামো, শিক্ষক ও শিক্ষার মান নিশ্চিত করার সক্ষমতাকে গুরুত্ব দিতে হবে।
উচ্চশিক্ষা মানুষের ভবিষ্যৎ নির্মাণের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। তাই বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিস্তার যেন শিক্ষার মানের অবনতির কারণ না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে।






