হাসপাতালের বিছানায় ৭ বছরের তহমিনা, পাশে দাঁড়ানোর আকুতি

একটি কিডনি বিকল, অন্যটিও ঝুঁকিতে’। বাঁচতে চায় তারাগঞ্জের ৭ বছরের তহমিনা, চিকিৎসার টাকা জোগাতে পারছেন না বাবা।

আব্দুল্লাহিল শাহীন, তারাগঞ্জ (রংপুর): যে বয়সে স্কুলে যাওয়ার কথা, সহপাঠীদের সঙ্গে খেলাধুলায় মেতে থাকার কথা, সেই বয়সেই হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে অসুস্থতার সঙ্গে লড়ছে সাত বছরের তহমিনা। পরিবারের দাবি, তার একটি কিডনি বিকল হয়ে গেছে এবং অন্য কিডনিটিও ঝুঁকিতে রয়েছে। বর্তমানে রংপুরের প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তহমিনার নিয়মিত ডায়ালিসিস চলছে।

তহমিনা রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার কুর্শা ইউনিয়নের পাঠানপাড়া গ্রামের তহিবুলের মেয়ে।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক মাস আগে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে তহমিনা। পরে তাকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকেরা কিডনির গুরুতর সমস্যার কথা জানান। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়।

বর্তমানে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী তার চিকিৎসা ও ডায়ালিসিস চলছে। পরিবারের ভাষ্য, চিকিৎসা চালিয়ে নিতে অন্তত তিন লাখ টাকা প্রয়োজন। এরই মধ্যে ধার-দেনা করে প্রায় এক লাখ টাকা জোগাড় করেছিলেন বাবা তহিবুল। সেই অর্থও চিকিৎসার পেছনে ব্যয় হয়ে গেছে।

মেয়ের চিকিৎসা করাতে গিয়ে এখন আর্থিক সংকটে পড়েছেন তহিবুল। সীমিত আয়ের পরিবারের পক্ষে নতুন করে চিকিৎসার ব্যয় বহন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। একদিকে মেয়ের অসুস্থতা, অন্যদিকে প্রতিদিনের চিকিৎসা ব্যয়—সব মিলিয়ে দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে তাঁর।

তহিবুল বলেন, নিজের সামর্থ্যের সবটুকু দিয়ে মেয়ের চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু চিকিৎসার খরচ বাড়তে থাকায় এখন একা আর তা বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। মেয়ের চিকিৎসা কীভাবে চালিয়ে যাবেন, সেটিই এখন তাঁর সবচেয়ে বড় চিন্তা।

তহমিনার পরিবারের সদস্যরা সমাজের সামর্থ্যবান ব্যক্তি, প্রবাসী, বিভিন্ন সামাজিক সংগঠন ও মানবিক মানুষের কাছে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, মানুষের সহযোগিতা পেলে তহমিনার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে।

সাত বছরের তহমিনার চিকিৎসার জন্য সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিতে সমাজের মানুষের প্রতি পরিবারের আকুল আবেদন।