কাদা-পানি আর দুর্গন্ধে নাজেহাল তারাগঞ্জ হাট

ছবি: নিজস্ব প্রতিনিধি

রাস্তার ওপর দোকানপাট, জরাজীর্ণ মাছের বাজার; মাংসের বাজারে ছড়াচ্ছে দুর্গন্ধ

আব্দুল্লাহিল শাহীন, তারাগঞ্জ (রংপুর): সামান্য বৃষ্টিতেই কাদা-পানিতে একাকার হয়ে পড়ে রংপুরের তারাগঞ্জ হাট। হাটের ভেতরের সড়কে জমে থাকে পানি ও কাদা। এর মধ্যেই রাস্তার ওপর বসে দোকানপাট। কোথাও পণ্য সাজিয়ে চলছে কেনাবেচা, কোথাও কাদাপানি মাড়িয়ে চলতে হচ্ছে ক্রেতাদের। মাছ বাজারের জরাজীর্ণ অবস্থা আর মাংসের বাজারের দুর্গন্ধে দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, হাটের বিভিন্ন সড়কে বৃষ্টির পানি জমে আছে। পর্যাপ্ত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা না থাকায় কোথাও কাদা জমে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে গেছে। এর মধ্যেই সড়কের ওপর বসেছে বিভিন্ন পণ্যের দোকান। এতে ক্রেতাদের চলাচলের পাশাপাশি যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।

হাটের মাছ বাজারের অবস্থাও নাজুক। কাদা-পানি ও ময়লা-আবর্জনায় বাজারের বিভিন্ন অংশ জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে। মাছ বিক্রির স্থান ও চলাচলের জায়গার মধ্যে নেই পর্যাপ্ত শৃঙ্খলা। বৃষ্টির পানি ও বাজারের বর্জ্য একসঙ্গে মিশে পরিবেশ আরও নোংরা হয়ে ওঠে।

মাংসের বাজারেও একই চিত্র। বিভিন্ন স্থানে পড়ে থাকা ময়লা ও মাংসের বর্জ্য থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। বৃষ্টির পানির সঙ্গে বর্জ্য মিশে পরিস্থিতি আরও খারাপ হচ্ছে। দুর্গন্ধের মধ্যেই ক্রেতাদের কেনাকাটা করতে হচ্ছে।

স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, সামান্য বৃষ্টিতেই হাটের ভেতরে পানি ও কাদা জমে যায়। পানি দ্রুত নিষ্কাশন না হওয়ায় দোকানে পণ্য রাখা ও ক্রেতাদের চলাচলে সমস্যা হয়। মাছ, মাংস ও কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ীদের দুর্ভোগ সবচেয়ে বেশি।

ক্রেতারা বলেন, উপজেলার অন্যতম বড় এই হাটের পরিবেশ আরও পরিচ্ছন্ন ও চলাচল উপযোগী হওয়া প্রয়োজন। নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা এবং কার্যকর পানি নিষ্কাশনব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।

তারাগঞ্জ হাট শুধু স্থানীয় মানুষের কেনাকাটার কেন্দ্র নয়। পাশের নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ ও সৈয়দপুর উপজেলার মানুষও এখানে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য আসেন। শাকসবজি, মাছ, মাংস, চাল-ডালসহ বিভিন্ন পণ্যের বড় বেচাকেনা হয় এ হাটে। দেশের বিভিন্ন স্থানেও এখান থেকে পণ্য পরিবহন করা হয়।

এত গুরুত্বপূর্ণ একটি হাটের অবকাঠামো, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও পানি নিষ্কাশনব্যবস্থার উন্নয়ন না হলে বর্ষায় ক্রেতা-বিক্রেতাদের দুর্ভোগ আরও বাড়বে বলে স্থানীয়রা জানান।