আইন অনুষদের ডিন সংগীত বিভাগের অধ্যাপক

বিধি ও যোগ্যতা নিয়ে শিক্ষার্থীদের প্রশ্ন, প্রশাসনের ব্যাখ্যা বিশেষ পরিস্থিতিতে সিদ্ধান্ত।

টুইট প্রতিবেদক: ময়মনসিংহের জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদের নতুন ডিন হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সংগীত বিভাগের অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী। আইন ও বিচার বিভাগের কোনো শিক্ষককে দায়িত্ব না দিয়ে ভিন্ন বিভাগের একজন অধ্যাপককে ডিন করায় বিষয়টি নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন ও আলোচনা তৈরি হয়েছে।

এর আগে আইন অনুষদের ডিনের দায়িত্বে ছিলেন আইন ও বিচার বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মুহাম্মদ ইরফান আজিজ। তার পরিবর্তে অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমীকে নতুন ডিন হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় আইনের বিধান অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট অনুষদের বিভাগগুলোর অধ্যাপকদের মধ্য থেকে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে ডিন নিয়োগের বিধান রয়েছে।

উপাচার্য সিন্ডিকেটের অনুমোদন নিয়ে দুই বছরের জন্য ডিন নিয়োগ করতে পারেন। কোনো বিভাগে অধ্যাপক না থাকলে ওই বিভাগের জ্যেষ্ঠতম সহযোগী অধ্যাপককেও দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। একই ব্যক্তি পরপর দুই মেয়াদে ডিন থাকতে পারেন না।

তবে ডিন নিয়োগের ক্ষমতা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের হাতে থাকায় বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রচলিত ধারার বাইরে গিয়েও সিদ্ধান্ত নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

এদিকে আইন অনুষদের বাইরে থেকে ডিন নিয়োগের বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাদের মতে, আইন শিক্ষা একদিকে যেমন একাডেমিক বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত, অন্যদিকে পেশাগত প্রস্তুতি, গবেষণা ও ভবিষ্যৎ কর্মজীবনের সঙ্গেও সরাসরি সম্পর্কিত।

ফলে আইন ও বিচার বিভাগের অভিজ্ঞ শিক্ষককে অনুষদের নেতৃত্বে রাখা হলে শিক্ষার্থীরা বেশি উপকৃত হতে পারেন।

আইন ও বিচার বিভাগের এক শিক্ষার্থী বলেন, অনুষদের গুরুত্বপূর্ণ নীতিনির্ধারণ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে সংশ্লিষ্ট বিভাগের শিক্ষকদের অভিজ্ঞতা বিশেষভাবে প্রয়োজন।

বিভাগটি বর্তমানে প্রায় সব দিক থেকেই স্বয়ংসম্পূর্ণ হওয়ায় বিভাগের যোগ্য শিক্ষকদের মধ্য থেকেই ডিন নির্বাচন করা হলে তা শিক্ষার্থীদের জন্য কার্যকর হতে পারে।

নতুন ডিন একই সঙ্গে একাধিক প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করায় কাজের চাপ বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীদের কেউ কেউ।

তাদের দাবি, অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী এর আগে পরিবহণ প্রশাসকের দায়িত্বও পালন করেছেন। ফলে ডিন, পরিবহণ প্রশাসক ও শিক্ষক,তিনটি দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে সংশ্লিষ্ট দায়িত্বগুলোর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হতে পারে।

তবে অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা নিয়ে আপত্তি নেই বলেও জানিয়েছেন কয়েকজন শিক্ষার্থী। তাদের মতে, তিনি শিক্ষার্থীবান্ধব ও দক্ষ শিক্ষক হিসেবে পরিচিত।

তবে আইন শিক্ষার বিশেষায়িত প্রকৃতি বিবেচনায় আইন ও বিচার বিভাগের কোনো যোগ্য শিক্ষককে অনুষদের নেতৃত্বে রাখা হলে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক স্বার্থ আরও ভালোভাবে সমন্বয় করা সম্ভব হতে পারে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ মোশাররফ হোসেন বলেন, সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী জ্যেষ্ঠ অধ্যাপককে ডিন করা হয়। অধ্যাপক না থাকলে সহযোগী অধ্যাপককে দায়িত্ব দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

আইন বিভাগ থেকে কাকে ডিন করা যায়,এ নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে আলোচনা রয়েছে, বিষয়টি তিনি জানতে পেরেছেন। সমালোচনা এড়াতেই আপাতত অন্য বিভাগের একজন অধ্যাপককে ডিন হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।

অন্য বিভাগের শিক্ষককে আইন অনুষদের ডিন করার বিষয়ে উপাচার্য বলেন, আগে আইন ও বিচার বিভাগ কলা অনুষদের অধীনে ছিল। পরে পৃথক আইন অনুষদ গঠন করা হয়। ডিন হিসেবে দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো বিভাগের শিক্ষকই হতে হবে,এমন বাধ্যবাধকতা নেই। প্রয়োজন হলে উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হতে পারে।

নবনিযুক্ত ডিন অধ্যাপক ড. আহমেদ শাকিল হাসমী সম্পর্কে উপাচার্য বলেন, তিনি যথেষ্ট শিক্ষার্থীবান্ধব ও শান্তশিষ্ট শিক্ষক।

নিয়োগের পর শিক্ষার্থীদের প্রশ্নের মূল বিষয়টি এখন দাঁড়িয়েছে,আইন অনুষদের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম পরিচালনায় সংশ্লিষ্ট বিষয়ের শিক্ষকের অভিজ্ঞতা কতটা গুরুত্বপূর্ণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিদ্যমান বিধি প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রশাসনের ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত কীভাবে ব্যাখ্যা করা হবে। বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী প্রশাসনিক সিদ্ধান্তের দিকেই এখন নজর রয়েছে।