প্রাণীদের খাবার দেওয়া অপরাধ নয়, ঢাকায় তরুণীকে মারধরের ঘটনায় বিএএভি‘র তীব্র প্রতিবাদ

মারধরের শিকার সুমাইয়া রহমানের মুখে আঘাতের চিহ্ন। ছবি: প্রথম আলো

হামলার প্রতিবাদে বাংলাদেশ অ্যানিমেল অ্যালায়েন্স ভলান্টিয়ার্সের নিন্দা, জড়িতদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি।

টুইট ডেস্ক: রাজধানীর বনশ্রী এলাকায় পথকুকুরকে খাবার দেওয়াকে কেন্দ্র করে সুমাইয়া রহমান নামে এক তরুণীকে মারধর ও হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ অ্যানিমেল অ্যালায়েন্স ভলান্টিয়ার্স ( বিএএভি)

সংগঠনটির প্রধান নির্বাহী ও পরিচালক গোলাম মুহীউদ্দীন হামীম এক বিবৃতিতে ঘটনাটির তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, ২২ সেপ্টেম্বর রাতে সুমাইয়া রহমান লাল মিয়া গলিতে নিয়মিত পথকুকুরকে খাবার দিচ্ছিলেন। এ সময় তাকে প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে মারধর, গালাগাল ও হেনস্তা করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিবৃতিতে দাবি করা হয়, হামলায় তরুণীর মুখে ও পিঠে আঘাত লাগে এবং চোয়াল ও চোখের নিচে জখমের চিহ্ন দেখা যায়। ঘটনাস্থলে ৫০ থেকে ৬০ জনের মতো মানুষের ভিড় হয়েছিল বলেও সংগঠনটির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

BAAV-এর অভিযোগ, হামলায় জড়িত কয়েকজন স্থানীয় রাজনৈতিক নেতার সহযোগী বলে স্থানীয়ভাবে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা যায়নি।

গোলাম মুহীউদ্দীন হামীম বলেন, পথপ্রাণীকে খাবার দেওয়া কোনো অপরাধ নয়। প্রাণীদের প্রতি সহমর্মিতা দেখানোর কারণে কোনো ব্যক্তিকে মারধর বা হেনস্তা করা গ্রহণযোগ্য নয়। তাঁর ভাষায়, ঘটনাটি শুধু একজন তরুণীর ওপর হামলার অভিযোগ নয়, বরং প্রাণীপ্রেমীদের নিরাপত্তা ও মানবিক আচরণ নিয়েও গুরুতর প্রশ্ন তৈরি করেছে।

সংগঠনটির পক্ষ থেকে হামলাকারীদের দ্রুত শনাক্ত করে গ্রেপ্তার, খিলগাঁও থানায় দায়ের করা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং নারী ও প্রাণীপ্রেমীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দৃশ্যমান পদক্ষেপ দাবি করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, পথপ্রাণীদের প্রতি সহমর্মিতা দেখানো অপরাধ নয়। একই সঙ্গে প্রাণীকল্যাণে কাজ করা ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং কোনো ধরনের সহিংসতার অভিযোগ উঠলে তা আইনানুগভাবে তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।

ঘটনার বিষয়ে পুলিশ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।